শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১১

ইতিহাস

হজরত ওমরের শাসনব্যবস্থা

হজরত ওমরের শাসনব্যবস্থা

১৩০০ বছর আগে খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর গৃহীত সামরিক রীতিনীতি বর্তমান যুগেও শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তাঁর অপূর্ব সংগঠনী শক্তি অনারব, রোমক ও গ্রিক জাতির অসংখ্য বীর যোদ্ধাকে ইসলামের পতাকাতলে সমবেত ও স্বজাতির বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এভাবে হজরত ওমর (রা.) কেবল সাম্রাজ্য বিস্তারই করেননি, একে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।

সমগ্র ইসলামী সাম্রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন-ব্যবস্থার প্রবর্তন হজরত ওমর (রা.)-এর একটি স্মরণীয় কীর্তি। পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁর শাসনামল স্বর্ণযুগ ও মানবতার কল্যাণের যুগ হিসেবে অভিহিত হয়েছে। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমার ওপরে তোমাদের কতকগুলো অধিকার রয়েছে, আমার কাছ থেকে তা আদায় করা তোমাদের কর্তব্য। তোমাদের জীবিকার মানোন্নয়ন ও সীমান্ত সংরক্ষণ আমার কর্তব্য। আমার প্রতি তোমাদের এ অধিকারও রয়েছে যে, আমি তোমাদের কখনো বিপদে নিক্ষেপ করব না।’ এ ঘোষণায় তাঁর শাসনব্যবস্থার কল্যাণকর রূপ সহজে উপলব্ধি করা যায়। বস্তুত শাসক হিসেবে তিনি জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতার বহু কাহিনী আজও প্রবাদের মতো সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে এবং শত-সহস্র পাঠকের বিস্ময় ও শ্রদ্ধার কারণ হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর মূলনীতি ছিল মানুষের সেবা, যার ফলে তাঁর আমলে জাতিধর্মনির্বিশেষে সবাই সুখে শান্তিতে বাস করত। তিনি এমন একটি আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করে যান, যার মূলে ছিল শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব- এক কথায় বিশ্বমানবের সেবা।

হজরত ওমর (রা.)-এর প্রতিষ্ঠিত মজলিসে শূরা বা পরামর্শ পরিষদ আজও বিশ্ব গণতন্ত্রের জয়গান করছে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘পরামর্শ ছাড়া কোনো খিলাফত চলতে পারে না।’

শাকিলা জাহান

 


আপনার মন্তব্য