শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:২৬

ভালো মানুষ হওয়ার আমল

শাহ মাহমুদ হাসান

ভালো মানুষ হওয়ার আমল

ইসলামে ভালো কাজের প্রতি সর্বাধিক উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং ভালো কাজে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘ভালো কাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১৪৮। মানুষকে ভালো বানানোর জন্য ইসলাম নিয়েছে কার্যকর অনেক পদক্ষেপ। যেমন- নেক আমল করা : ভালো মানুষ হওয়ার জন্য এবং অপরাধমুক্ত জীবন গঠনের জন্য ইমান আনার পরপরই নেক আমল করতে হবে। জনৈক ব্যক্তি একবার বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ এবং আমলও ভালো। লোকটি বললেন, সবচেয়ে মন্দ লোক কে? তিনি বললেন, যার বয়স দীর্ঘ এবং আমলও খারাপ। তিরমিজি। নেক আমলসমূহের মধ্যে নামাজ এমন নেক আমল যা মানুষকে অপরাধমুক্ত রাখে। আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ কায়েম কর। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।’ সূরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘ওই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে সত্যবাদী ও পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী, যা ১. পাপ করেনি ২. অবিচার করেনি ৩. প্রতারণা করেনি এবং ৪. হিংসা-বিদ্বেষ থেকেও মুক্ত।’ ইবনে মাজাহ। তাকওয়া অবলম্বন : ইসলামে মর্যাদাবান মানুষের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুত্তাকিরা। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক মর্যাদাবান যে সর্বাধিক পরহেজগার।’ সূরা হুজুরাত, আয়াত ১৩। তাকওয়া বা আল্লাহভীতির অনিবার্য ফল হলো, বান্দা কোনো প্রকারেই শরিয়ত নির্ধারিত সীমার বাইরে যাবে না। তাকওয়া হচ্ছে জান্নাত লাভের উৎকৃষ্ট উপায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রভুর সামনে উপস্থিত হওয়াকে ভয় করে এবং নিজের অন্তরকে কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখে, জান্নাতই হবে তার জন্য চূডান্ত আবাসস্থল।’ সূরা নাজিয়াত, আয়াত ৪০-৪১। অন্যের ক্ষতি সাধন না করা : হজরত আবু মুসা (রা) বর্ণনা করেন, আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসুল! মুসলমানদের মধ্যে কে উত্তম? তিনি বলেন, ‘যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ মুসলিম। ভালো মানুষকে আল্লাহ যেমন ভালোবাসেন তেমন খারাপ মানুষকেও আল্লাহ অপছন্দ করেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ কেয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন না। তাদের পবিত্র করবেন না। তাদের দিকে দয়ার নজরে তাকাবেন না। তদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ১. বৃদ্ধ ব্যভিচারী ২. মিথ্যুক শাসক এবং ৩. অহংকারী গরিব।’ মুসলিম।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য