শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৩০

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা

নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য স্বস্তিদায়ক

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা

নির্যাতিত-নিপীড়িত নারী ও শিশুর জবানবন্দি নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার ইতিমধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল ব্যক্তির জবানবন্দি ওই আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত জবানবন্দি গুরুত্ব বহন করে। বর্তমানে বেশকিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নেওয়ার বিষয়টি ‘স্পেশাল কমিটি ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’ জানতে পেরেছে। একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নারী বা শিশু ভিকটিম ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সংকোচ বোধ করেন। ফলে নির্যাতনের শিকার শিশু বা নারী ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। এ অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি নেওয়ার দায়িত্ব নারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অর্পণের জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। নারী নির্যাতন বিশেষত যৌন হয়রানির ঘটনা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা এবং পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে নিজেদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ করতে গিয়ে নারী ও শিশুরা প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। বিশেষত পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তারা যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হন এটি একটি ওপেন সিক্রেট। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জবানবন্দি গ্রহণে নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়ার যে নির্দেশনা দেশের সর্বোচ্চ আদালত দিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়ানোর এ মহানুভবতা আদালতের প্রতি দেশবাসীর সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।


আপনার মন্তব্য