শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মে, ২০১৯ ২৩:৪৩

মানব পাচারের অভিশাপ

৩৭ বাংলাদেশির সলিলসমাধি

মানব পাচারের অভিশাপ

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ৫১ বাংলাদেশিসহ ৭৫ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার উপকূলে         ভূমধ্য সাগরে ডুবে যাওয়ায় ৩৭ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিউনিশিয়ার নৌবাহিনী সাগর থেকে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে যাদের ১৪ জনই বাংলাদেশি। তিনজনের মরদেহও উদ্ধার করেছে নৌবাহিনীর সদস্যরা। লিবিয়া থেকে নৌকায় ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করে ইউরোপে অভিবাসী প্রত্যাশীরা। তাদের পাচার করার জন্য লিবিয়ায় বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৭৫ জন অভিবাসী নিয়ে একটি বড় নৌকা লিবিয়ার উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর গভীর সাগরে নৌকাটি থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি রবারের নৌকায় যাত্রীদের তোলা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। সি ফ্যাক্স উপকূলের ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটি ডুবে যায়। তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস থেকে ওই স্থানের দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মর্মান্তিক নৌকাডুবির পর অভিবাসীদের উদ্ধারে একটি মাছ ধরার নৌযান নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তিউনিস নৌবাহিনী। তারা জীবিতদের পাশাপাশি তিনজনের মরদেহ উদ্ধারে সমর্থ হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এ ঘটনাকে ভূমধ্যসাগরের ‘আরও একটি বিয়োগান্তক ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি ডুবে যাওয়া লোকজনদের মধ্যে লিবীয় ছাড়াও বাংলাদেশ ও মরক্কোর নাগরিকরা ছিলেন। এ বছরের প্রথম চার মাসে লিবিয়া থেকে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১৬৪ জন মারা গেছেন। তিউনিশীয় উপকূলে নৌকা ডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু মানব পাচারের অনিবার্য পরিণতি। অবৈধভাবে অভিবাসী হওয়ার কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ বাংলাদেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জীবিকার তাগিদে সহায় সম্বল বিক্রি করে অথবা উচ্চসুদে টাকা ধার নিয়ে বিদেশে অভিবাসী হতে গিয়ে কেউ বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন কেউবা ধরা পড়ার ভয়ে বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। মানব পাচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে উঠলে এসব বিপদ সহজে এড়ানো সম্ভব হতো। বন্ধ হতো একের পর এক ট্র্যাজেডি।


আপনার মন্তব্য