শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০১৯ ২২:৪৫

জাকাতের বিধি-বিধান

মুফতি এহসানুল হক জিলানী পেশ ইমাম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

জাকাতের বিধি-বিধান

জাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। ইমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। ইসলামে জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকদের ওপর বার্ষিক নির্দিষ্ট হারে জাকাত ফরজ করেছেন। মূলত জাকাতের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে ধনী-গরিবের আর্থ-সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সামাজিক বৈষম্যের অবসান ঘটে। কেউ খাবে কেউ খাবে না এমন জঘন্য নীতির অবসান ঘটায় এ জাকাত। তাই ইসলামে জাকাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ জাকাত প্রদান করার ব্যাপারে যেমন ইহকালীন ও পরকালীন বিভিন্ন মহান পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে, ঠিক তেমনি এ জাকাত প্রদান না করার ব্যাপারেও কঠিন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং জাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য আগে পাঠাবে তা আল্লাহর কাছে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১১০। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, তোমরা সালাত আদায় কর, জাকাত দাও এবং রসুলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’ সূরা নূর, আয়াত ৫৬। সূরা নিসার ১৬২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আজিম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ইমান রাখে আমি তাদের মহাপুরস্কার দেব।’ অন্য আয়াতে জাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র ও পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনার দোয়া তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ সূরা তওবা, আয়াত ১০৩। ওপরের আলোচনা থেকে জাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এখান থেকে এ বিষয়টাও অনুমান করা যায় যে, ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যারা জাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ততার শিকার! জাকাতের সব সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদের যে মর্মন্তুদ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তা-ও কোরআন মজিদে বলে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও জমিনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত।’

[গত শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রদত্ত খুতবার অংশবিশেষ।]


আপনার মন্তব্য