Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০১৯ ২৩:০৯

মানব জীবনে জাকাতের গুরুত্ব

মুফতি মুহাম্মাদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী

মানব জীবনে জাকাতের গুরুত্ব

জাকাতের পরিচয় : ‘জাকাত’ আরবি শব্দ। অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্রতা বা পরিশুদ্ধতা। জাকাতের আরেক অর্থ পরিবর্ধন। ইসলামী বিশ্বকোষে জাকাতের অর্থ লেখা আছে : জাকাত অর্থ পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে রসুল! আপনি তাদের মালামাল থেকে জাকাত গ্রহণ করুন যাতে আপনি এর মাধ্যমে সেগুলোকে পবিত্র এবং বরকতময় পরিশুদ্ধ করতে পারেন।’ সূরা তওবা, আয়াত ১০৩। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, বনু হাশিম তথা আওলাদে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া জীবনযাত্রার অপরিহার্য প্রয়োজন পূরণের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর অতিক্রম করলে ওই সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্ধারিত খাতে ব্যয় করাকে জাকাত বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, নিজের অর্থসম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ অভাবী মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়াকে জাকাত বলে। একে জাকাত বলার কারণ হলো এভাবে জাকাতদাতার অর্থসম্পদ ও তার নিজের আত্মা পবিত্র-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘জাকাত ইসলামে ধনী-গরিবের সেতুবন্ধ।’ মুসলিম। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক-সম্পন্ন সব ‘সাহেবে নিসাব’ সাড়ে ৭ ভরি সোনা, সাড়ে ৫২ তোলা রুপার মালিক মুসলিম নর-নারীর ওপর জাকাত প্রদান করা ফরজ। কোনো ব্যক্তি মৌলিক প্রয়োজনীয় উপকরণাদি ছাড়া নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পর চাঁদের হিসাবে পরিপূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে তার ওপর পূর্ববর্তী বছরের জাকাত প্রদান করা ফরজ। অবশ্য যদি কোনো ব্যক্তি জাকাতের নিসাবের মালিক হওয়ার পাশাপাশি ঋণগ্রস্ত হয়, তবে ঋণ বাদ দিয়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে। জাকাত ফরজ হওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি জাকাত প্রদান না করে টাকা খরচ করে ফেলে তাহলেও তাকে তার আগের জাকাত দিতে হবে। নাবালেগ ও পাগলের ওপর জাকাত ফরজ হবে না। কারণ তাদের ওপর শরিয়তের বিধান আরোপিত হয় না। তবে যদি কোনো মস্তিষ্কবিকৃত ব্যক্তি নিসাবের মালিক হওয়ার সময় এবং বছর পরিপূর্ণ হওয়ার সময় সুস্থ থাকে, কিন্তু মধ্যবর্তী সময় মস্তিষ্ক বিকৃতির শিকার হয় তাহলেও তাকে জাকাত প্রদান করতে হবে। জাকাত বণ্টনের ব্যাপারে আল কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই সদকা (জাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটাই আল্লাহর বিধান।’ সূরা তওবা, আয়াত ৬০।

মহাগ্রন্থ আল কোরআনের আলোকে জাকাত ব্যয়ের খাত ৮টি; যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো। ফকির বলা হয় যার কোনো সম্পদ নেই, নেই তার উপযোগী হালাল উপার্জন, যা দ্বারা তার প্রয়োজন পূরণ হতে পারে। যার খাওয়া-পরা ও থাকার স্থান নেই। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেই। আবার কেউ বলেছেন, ফকির সে যার সামান্য সম্পদ আছে। তবে জীবন ধারণের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করে।

মিসকিন বলা হয় যার এমন পরিমাণ সম্পদ আছে যা দ্বারা তার ওপর নির্ভরশীল লোকদের প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট নয়। মিসকিন সে-ই যার কোনো কিছুই নেই। আবার কারও মতে মিসকিন সেই ব্যক্তি যার কিছু সম্পদ আছে কিন্তু লজ্জা-সম্মানের ভয়ে কারও কাছে হাত পাতে না যারা। তারা জীবন-জীবিকার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা করার পরও প্রয়োজনমতো উপার্জন করতে পারে না। এত কিছুর পরও নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারে না।

লেখক : এমফিল গবেষক মুফাসসিরে কোরআন, বেতার ও টিভির ইসলামবিষয়ক উপস্থাপক খতিব, মণিপুর বাইতুর রওশন জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য