Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুন, ২০১৯ ২২:৪১

এ কেমন তামাশা?

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

এ কেমন তামাশা?

পবিত্র ঈদ সারা মুসলিম জাহানের জন্য এক মহাপবিত্র অনুষ্ঠান। ধনী-গরিব-রাজা-বাদশাহ-ফকির-মিসকিন সব মুসলমান পরম আনন্দে ঈদ উদ্যাপন করে। মুক্তিযুদ্ধে এত মারামারি-কাটাকাটি-হানাহানির মধ্যেও ঈদ থেমে থাকেনি। কিন্তু ইদানীং পবিত্র ঈদ নিয়েও যে কি রংতামাশা ভাবলে পাগল হয়ে যেতে হয়। এটা কোনো কথা হলো? এটা কোনো বিবেচনা হলো? আমাদের মাননীয় ধর্মমন্ত্রী রাত ৯টায় বললেন, কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। তাই ঈদ হবে বৃহস্পতিবার, বুধবার নয়। আবার রাত ১১টায় ঘোষণা এলো, ঈদ হবে বুধবার। যত উন্নতই হই, মুহূর্তে সবার ঘরে খবর পৌঁছানোর সামর্থ্য এখনো আমাদের হয়নি। শতকরা ৯০ জন রোজাদার মঙ্গলবার রাতে রোজা থাকার জন্য তারাবি পড়েছে। অন্তত শতকরা ৫০ জন সাহরি খেয়েছে। ইসলামের বিধিবিধান খুবই উদার। তাই বলে হারাম কাজে ধর্মের স্বীকৃতি নেই। রোজা শেষ, ঈদ হবে। এর পরও তারাবি পড়লে, সাহরি খেলে সেটা কি হারাম কাজ নয়? সবখানে সরকারি অব্যবস্থা, সবখানেই রাজনীতি। এখন কি ধর্মেও রাজনীতি? রাজনীতির প্রভাব? ঈদ নিয়ে বাড়াবাড়ি, ঈদ নিয়ে তামাশায় মানুষ যে কতটা ক্ষুব্ধ, মর্মাহত তা বোঝার ক্ষমতাও বোধহয় ক্ষমতাবানদের নেই। প্রতিবেশী ভারত যথাসময়ে ঈদের ঘোষণা দিয়েছিল। রাস্তাঘাটে মানুষ বলাবলি করে, আলোচনা করেÑ ভারতই নাকি আমাদের প্রধান গুরু। এ তো দেখছি গুরুমারা শিষ্যের চাইতে খারাপ। যদি ৮টা-৯টায় চাঁদ দেখা না গিয়ে থাকে প্রথম দিনের চাঁদ তো বেশি সময় থাকে না, ডুবে যায় বা হারিয়ে যায়। মধ্যরাতে তারা চাঁদ দেখল কী করে? অনেক ডিসির কাছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠি রয়েছে। তারা চাঁদ দেখে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাহলে কেন এমন হলো? মুসলমান হিসেবে সৌদি আরবে ঈদ হয়ে গেলে আমাদের রোজা রাখার উপায় আছে? চিরশত্রু পাকিস্তান, তাদের জটিলতা হলো না, চিরবন্ধু ভারতের জটিলতা হলো না। ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়া-মিয়ানমারে কোনো বিতর্ক নেই, যত বিতর্ক-দ্বন্দ্ব সে কি শুধু আমাদের নিয়ে? এশিয়ার কোনো দেশে ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব-বিভ্রান্তি হলো না, সন্দেহ হলো না, শুধু কি আমাদের যতসব দ্বন্দ্ব, যতসব বিতর্ক? এর কি কোনো প্রতিকার নেই? নাকি আওয়ামী লীগ নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে সবাই মিলে অপ্রিয় করতে এই অযোগ্যরা আদাজল খেয়ে নেমেছে?

ওদিকে ঈদ এলেই দুর্ঘটনা, মৃত্যু আর মৃত্যু। এবারও ৭০ জনের মতো ঈদের আগেই নিহত হয়েছে। এসবের কি কিছুই দেখবার নেই, কিছুই করার নেই? যে যাই বলুন, এভাবে তো মানুষজনকে রাস্তাঘাটে অঘোরে মরতে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে সরকারের খাতায় ধানের দাম ১০৪০ টাকা, কৃষক পায় ৫০০ টাকা! বাকিটা মিল মালিকদের পেটে। মিলাররা কেনে ৫০০ টাকায়, সরকার তাদের কাছ থেকে কিনবে ১০৪০ টাকায়। এ কি দেশের বিচার! এমনকি সব সময় চলতে পারে? এভাবে তো বেশিদিন চলতে পারে না।

এবার রেল যোগাযোগে প্রচন্ড বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্টের শেষ ছিল না। ফিরতি পথেও ৩-৪-৫ ঘণ্টা দেরিতে চলেছে সবকটি ট্রেন। এতে যারপরনাই দুঃখ প্রকাশ করেছেন নতুন রেলমন্ত্রী প্রিয় মো. নূরুল ইসলাম সুজন। কিন্তু তার দুঃখ প্রকাশে কোনো লাভ নেই। এক লাইনের রেলে সময় ঠিক রাখা যায় না, ঠিকভাবে গাড়ি চলে না। রেলমন্ত্রী এক দিনে তো আর নতুন লাইন বসাতে পারবেন না। তাই ওসব ভেবে লাভ নেই। আমি দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতে নির্বাসনে ছিলাম। মাঝেমধ্যেই বর্ধমান থেকে কলকাতা যেতাম। ননস্টপ লোকালে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট, প্রতি স্টেশনে থেমে থেমে লোকাল গাড়ি ২ ঘণ্টায় হাওড়া থেকে বর্ধমান, বর্ধমান থেকে হাওড়া যাতায়াত করে। অন্যদিকে এক্সপ্রেস ময়ূরাক্ষি, ব্ল্যাক ডায়মন্ড, শান্তিনিকেতন, বিধান, বিশ্বভারতী ফার্স্ট প্যাসেঞ্জারে সময় লাগে ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট। বসে-দাঁড়িয়ে যেভাবেই যাতায়াত করুক না কেন ঘড়ি মেলানোর মতো সময় রক্ষা করে চলে। সেসব জায়গায় কোনোখানে ৪ লাইন, কোনোখানে ৬ লাইন। হাওড়া ও শিয়ালদার কাছাকাছি আরও ২-১ লাইন বেশি। সেখানে রেল ব্যবস্থাপনা আলাদা। আমাদের রেল ব্যবস্থাপনায় সবেধন নীলমণি এক লাইন। এক লাইনের রেলে ফুটানির দিন শেষ হয়ে গেছে। নতুন মন্ত্রী পঞ্চগড় সীমান্তের বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যেতে চান। খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জিনিসপত্র আনা-নেওয়া ও মানুষের যাতায়াত এতে সহজ হবে। শুধু সড়কপথে নির্ভরতা অনেকটা কমে যাবে। দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও অথবা পঞ্চগড় থেকে হাইস্পিড ট্রেন চললে রাজধানীর সঙ্গে ওই অঞ্চলের যোগাযোগের একটা মারাত্মক বিপ্লব ঘটবে। তাই কাজগুলো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে করা উচিত।

সড়কপথে এবার এক ঐতিহাসিক রেকর্ডের সম্ভাবনা ছিল। ক্রিকেটে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে জয় যেমন গৌরব আর অহংকারের, তেমনি এবার সড়ক নিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী প্রিয় ওবায়দুল কাদের সে রকম গর্ব করতে পারতেন। জানি জনাব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ক্ষমতাশালী অনেক লোক আছে। নানা ষড়যন্ত্রও আছে। কিন্তু তাই বলে এমন হবে, কোনো প্রতিকার হবে না তা কী করে হয়? মাননীয় সেতুমন্ত্রী মালিকদের লোভী বলেছেন। তা তিনি বলতেই পারেন। দেশে এখন নীতি-নৈতিকতা নেই, মায়া-মমতা-মানবতা নেই। তাই যে যখন পারে হাতিয়ে নেয়। আমার কথা সেটা নয়, আমার কথা ৪ জুন ড. কামাল হোসেনের অনুরোধে ঢাকায় গিয়েছিলাম। প্রায় ১২-১৫ বছর পর পৌনে ২ ঘণ্টায় ঢাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণভবনের গেটে পৌঁছেছিলাম। সত্যিই এটা একটা রেকর্ড। কিন্তু ব্যতিক্রম হলো টাঙ্গাইল থেকে বেরিয়ে বাইপাসে দেখি এক মারাত্মক জট। যমুনা সেতু থেকে মির্জাপুর-দেওহাটা পর্যন্ত গাড়ির সারি। ৫৫-৬৫ কিলোমিটার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা যানজট ছিল। কারণ যমুনা সেতুর টোল মেশিন খারাপ ছিল। মেশিন খারাপ ছিল তো সাধারণ মানুষ কী করবে? গাড়ি-ঘোড়ার চালকদের কী দোষ, মেশিন খারাপ। টোল ফ্রি করে দিলেই হতো। ঈদ উপলক্ষে যমুনার টোল এক দিন ফ্রি করে দিলে রাষ্ট্রের কী এমন ক্ষতি হতো? নাকি মাননীয় সেতুমন্ত্রীকে নাজেহাল করার জন্য এমনটা করা হয়েছিল? নাকি আমি মাননীয় সেতুমন্ত্রীকে স্বস্তিদায়ক সড়কের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম বলে মাঠে এ দীর্ঘ যানজট? কাকে বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেই বলি। সকালে ঢাকায় গিয়ে বিকালে ফিরে তখনো টাঙ্গাইলের বাওঐখোলা থেকে যমুনা সেতু ৩৫ কিলোমিটার যানজট ছিল। ঢাকা থেকে বার বার ভাবছিলাম সখীপুরের ভিতর দিয়ে বাসাইল হয়ে ঘারিন্দা দিয়ে টাঙ্গাইল চলে যাব। তাই গোড়াই থেকে ডানে যেতে চেয়েছিলাম। একবার মনে হলো পাকুল্যা পর্যন্ত যেতে পারলে তো দেলদুয়ার হয়ে টাঙ্গাইল যাওয়া যায়। ৩০-৩৫ মিনিট লাগে। পাকুল্যা এসে দেখলাম রাস্তা ফাঁকা। তাই সাহস করে এগোলাম। কারণ আরও ২-৩ কিলোমিটার পর নাটিয়াপাড়া থেকে ডানে-বাঁয়ে দুই দিকে রাস্তা আছে। না, নাটিয়াপাড়াও ফাঁকা। এলাম বাওঐখোলা। এসে দেখি সকাল ৯টায় যাওয়ার পথে যেমন দেখে গেছি ঠিক তেমন রয়েছে। শত শত গাড়ি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক সময় মাথায় কাজ করে না। বাওঐখোলা থেকে ১ কিলোমিটার এগোতে দেড় ঘণ্টা লেগেছে। তারপর মনে হলো ডান পাশ দিয়ে গেলেই তো পারতাম। করাতিপাড়া থেকে ডান পাশে এসে ৬-৭ মিনিটে ৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে টাঙ্গাইল এসেছিলাম। আমি ওভাবে এলে কী হবে, বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্বরে এক নারীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। হাবিব হোসেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পোরার ভিটার ফারুক হোসেনের ছেলে। তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নার্সসহ একটা অ্যাম্বুলেন্স আসে। কিন্তু তার আগেই এই দরিদ্র রিকশাচালকের স্ত্রী আফরোজা বেগম পথিমধ্যে সন্তান প্রসব করেন। এটা যে কত হৃদয়বিদারক ও একটা সভ্যসমাজের জন্য লজ্জার যদি ভেবে দেখা না হয় কিছুই করার নেই। কোনো বিমান সংস্থায় আকাশে কোনো মা সন্তান প্রসব করলে সেই সন্তানের সেই বিমান সংস্থা পরিবার-পরিজনসহ সারা জীবন চলাচল ফ্রি এবং যে দেশের জাহাজে সে জন্মগ্রহণ করে সে দেশের সে সম্মানী নাগরিক। হাবিব এবং আফরোজার কন্যা স্মরণী মহাসড়কে জন্মে সে কি আমাদের জাতিকে কোনো দিশা দেখাবে, দেশ এবং সরকার কি তাকে কোনো সম্মান জানাবে? ডান পাশে ভুল সড়কে আসতে কাটাকাটা বিঁধছিল। বছর তিন আগে আমার পুরো পরিবার টাঙ্গাইল এলাম। হেমায়েতপুর থেকে ছিল রাস্তা ব্লক। তাই ডান পাশ হয়ে সাভার ডেইরি ফার্ম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়ে বর্তমান সাভার-নবীনগর ক্যান্টনমেন্টের কাছে এলে প্রিয় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা। নেমে এসে বলেছিলেন, ‘কাদের ভাই, আপনিও এ পাশে?’ আমি কিছুটা লজ্জা পেয়েছিলাম। ১০-১৫ গজ সামনেই এপাশ-ওপাশ করার ফাঁক ছিল। আমি রং ট্র্যাক থেকে রাইট ট্র্যাকে এসেছিলাম। সেখান থেকে নবীনগর মোড় বড়জোর ১ কিলোমিটার। এই ১ কিলোমিটার পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা লেগেছিল। যে ছোট্ট বাচ্চা কুশি, যার জন্য সব করতে পারি সে হাঁসফাঁস করছিল। তার মা অসুস্থ। তখন আর লজ্জা করছিল না। মনে হচ্ছিল সেতুমন্ত্রী রং ট্র্যাক থেকে লোকজনকে যখন রাইট ট্র্যাকে আনেন তখন কি তার মনে হয় ১-২ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে কেন ২ ঘণ্টা লাগে? সেবার চন্দ্রা পর্যন্ত পৌঁছতে ঢাকা থেকে আমার ৭ ঘণ্টা লেগেছিল। সে ঈদ আমার হয়নি। মারাত্মক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চন্দ্রায় রাস্তার পাশে এক গরিবের বাড়িতে রাত কাটিয়েছিলাম। ছেলেমেয়ে আরও ৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল পৌঁছেছিল। আমি সারা রাত পড়ে ছিলাম চন্দ্রায়। পাশে ছিল গ্রাম্য ডাক্তার খুরশীদ আলম, বাড়ইপাড়ার আলী হোসেন ও অন্যরা। পরদিন টাঙ্গাইল এসে যাই সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে সুহৃদ মেজর মান্নান এমপি ভালোবেসে হেলিকপ্টারে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। তাই মনে হয় সহজে পার পেয়ে গিয়েছিলাম। গতকাল ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। লেখাটা আগেই দিতে হলো বলে আলোচনার বিষয়বস্তু পাঠকদের জানাতে পারলাম না। আমরা ৯ মে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন এবং সব দলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছি। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে আইনের শাসন বলবৎ করতে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্যের খুবই প্রয়োজন। সেই আশা ও বিশ্বাসে আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করেছিলাম। নির্বাচনে অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা, পুনর্নির্বাচনের ঐক্যফ্রন্টের দাবি ছিল জনগণের দাবি। কিন্তু পরে গণফোরামের দুজন এবং বিএনপির পাঁচজনের সংসদে যোগদান ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে এক তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। শুধু সরকার জবাবদিহি করবে, কথা রক্ষা করবে; বিরোধীরা করবে না-  সে তো হতে পারে না। ঐক্যফ্রন্ট উপজেলা নির্বাচন বয়কট করেছে। বিএনপির পাঁচজন ঝড়ে বক মরার মতো দয়ার দান সংসদ সদস্য সংসদে গেলেন। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব গেলেন না। যারা সংসদে গিয়েছেন তারা যদি দলের সিদ্ধান্তে গিয়ে থাকেন তাহলে মহাসচিব কি সে সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন? প্রশ্নগুলো পরিষ্কার হওয়া দরকার। যে নির্বাচন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তামাশা বলে দেশবাসী মনে করে সেই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে উপনির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বিএনপির অংশগ্রহণ কী করে হয়? এতে কি মানুষের আস্থা থাকবে? প্রশ্নটা এখানেই। আমাদের চাওয়া বেশি কিছু নয়। আমরা জনগণের কাছে বিশ্বস্ত থাকতে চাই। তাদের মালিক নয়, সেবক হতে চাই। একজন মুসলমান যেভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে, একজন হিন্দু যেভাবে ভগবানের আরাধনা করে আমরা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ঠিক তেমনি পবিত্রতা নিয়ে জনগণের সেবক হতে চাই, সেবা করতে চাই। আমরা দেশের পাহারাদার হতে চাই-  এটুকুই আমাদের কামনা, আমাদের বাসনা।

লেখক : রাজনীতিক।

www.ksjleague.com


আপনার মন্তব্য