শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩২

জলবায়ুতে বিসংবাদ

শিল্পোন্নত দেশগুলোকে দায় নিতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্যকে ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। রাজধানীর একটি হোটেলে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, জলবায়ু অভিযোজনে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের ভূমিকায় রয়েছে এ দেশটি। একই সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেছেন, জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সামনের কাতারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যে তিনি মুগ্ধ। প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবসহ বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য দেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সাফল্য দেখিয়েছে এটি সত্য হলেও উদ্বেগের বিষয়গুলো কম নয়। সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে প্রায় এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ওপরে পৌঁছেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল মানবেতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ কয়েকটি বছর ছিল। দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে এডিবির জলবায়ু ও অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের বার্ষিক জিডিপি ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। যদি বর্তমান হারে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলা স্থায়ীভাবে ডুবে যেতে পারে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে জলবায়ু অভিবাসীর সংখ্যা ৬০ লাখে পৌঁছেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তন, ঘন ঘন বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রতল ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিস্তৃত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন ৮ ও গমের উৎপাদন ৩২ শতাংশ কমে যেতে পারে। গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে বিশাল উন্নতি হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবে এ অর্জনগুলো হুমকির সম্মুখীন হতে পারে এমন আশঙ্কাও জোরদার হয়ে উঠছে। বিশ্বের জলবায়ুতে যে অশুভ পরিবর্তনের আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে তার জন্য দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যাপক শিল্পায়ন ও আবহাওয়া দূষিত করার ঘটনা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো সমুদ্রোপকূলীয় দেশগুলোর কোনো দায় না থাকলেও তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। এ ক্ষতি রোধে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে দায় স্বীকার করে এগিয়ে আসতে হবে।


আপনার মন্তব্য