শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫৩

জাপানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সমস্যার জট খুলুক

জাপানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব

সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের পর মিয়ানমারে যাবেন এবং সে দেশের সরকারকেও একই প্রস্তাব দেবেন। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশে জাপানের বড় মাপের বিনিয়োগ থাকায় রোহিঙ্গা ইস্যু জাপানি বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। সোমবার মধ্যরাতে ঢাকায় এসে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। বিকালে ঢাকায় ফিরে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিশেষভাবে উঠে আসে রোহিঙ্গা ইস্যু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে জাপানের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানান জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চলমান সংকটের বিষয়ে জাপান উদ্বিগ্ন বলে তিনি জানান। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা-নেপিদোর মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। জাপানকে এ বিষয়ে পরে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশেই জাপানের বিনিয়োগ রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে উভয় দেশেই বিনিয়োগ সংকটে পড়বে। রোহিঙ্গাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে বৈঠকে দুই দেশ ঐকমত্য পোষণ করেছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায়। যে কারণে জাপানের প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য দৃশ্যত ইতিবাচক হলেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মত দেয়নি। তবে জাপানি উদ্যোগ মিয়ানমারের সুমতি ফেরাতে সহায়তা করবে- বাংলাদেশ এমনটিই দেখতে চায়। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো পানি ঘোলা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশকে রাখাইন রাজ্যের সার্বভৌমত্ব অর্পণের প্রস্তাব উঠেছে মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রস্তাবে। বাংলাদেশ ঘৃণাভরে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, কোনো দেশের কোনো এলাকার প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহ নেই। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন চায়, মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে ক্ষুণœ হোক তা চায় না।


আপনার মন্তব্য