শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪০

আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য

মুহম্মাদ জিয়াউদ্দিন

ইসলামে জ্ঞানার্জনকে অবশ্য-করণীয় বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে এই জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টিবিধান। ব্যাপক অর্থে সেই জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টি মানুষসহ সব জীব ও বিশ্ব ভুবনের কল্যাণ সাধন উদ্দেশ্য হতে হবে। মানুষের অর্জিত বিদ্যা বা জ্ঞান যদি সব জ্ঞানের উৎস আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত না হয় তবে তার কোনো মূল্য নেই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি এমন বিদ্যা অর্জন করল যার সাহায্যে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয়। কিন্তু সে পার্থিব লাভের উদ্দেশ্যে তা শিক্ষা করলে জান্নাতের সুবাসটুকও পাবে না।’ আহমাদ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ। ইসলামে জ্ঞানার্জনকে যেমন অবশ্যকরণীয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে তেমনি এই জ্ঞানের আলোয় অন্যকে আলোকিত করাকেও মুমিনের কর্তব্য বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। জ্ঞান ব্যক্তির গরিমা প্রকাশের জন্য বা তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখার জন্য নয়। বরং তার দ্যুতি অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইসলামে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির কাছে এমন জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা সে জানে, কিন্তু সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন এই ব্যক্তিকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেওয়া হবে।’ আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিজি থেকে মিশকাতে। যারা জ্ঞানী তাদের গরিমামুক্ত হতে হবে। লোভ-লালসামুক্ত হতে হবে। যে বিদ্যা এসব বিচ্যুতি থেকে মানুষকে দূরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে না তা কোনো প্রকৃত বিদ্যা নয়। যে বিদ্যা স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট ও মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে নিবেদিত সেটিই সত্যিকারের বিদ্যা। এখানে ব্যক্তিগরিমা ও লোভ-লালসার ঠাঁই থাকা উচিত নয়। সুফিয়ান (রহ.) থেকে বর্ণিত, ‘ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কাব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইলমের অধিকারী কারা? তিনি বললেন, যারা ইলম অনুযায়ী আমল করে। ওমর (রা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, আলেমদের অন্তর থেকে ইলম কোন জিনিস বের করে দেয়? কাব (রা.) বললেন, লোভ-লালসা।’ দারিমি থেকে মিশকাতে। কাব ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আলেমের সামনে বাহাদুরি করার উদ্দেশ্যে অথবা নির্বোধদের সঙ্গে বিতর্ক-বাহাসে লিপ্ত হওয়ার জন্য অথবা নিজের প্রতি জনগণকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, তাকে আল্লাহ দোজখে প্রবেশ করাবেন।’ তিরমিজি থেকে মিশকাতে। আল্লাহ আমাদের বিদ্যা অর্জনসহ সব ক্ষেত্রে তাঁর সন্তুষ্টিবিধানের তাওফিক দিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য