শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩১

মানব পাচার মামলা

বিভাগীয় পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল অভিনন্দনযোগ্য

মানব পাচার মামলা

মানব পাচার সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে বিচারকসহ ৪৮টি পদ সৃজনে আইন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের পর ট্রাইব্যুনাল গঠনের বাকি কাজ সম্পন্ন করবে আইন মন্ত্রণালয়। এসব ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর মানব পাচারের ঘটনায় করা সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পথ খুলবে এমনটিই আশা করা হচ্ছে। স্মর্তব্য, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে পৃথকভাবে মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা আছে। ২০১২ সালে আইন প্রণয়নের সাত বছর পর আলোর মুখ দেখছে এ ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে প্রতিটি জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানব পাচার-সংক্রান্ত মামলার বিচার পরিচালিত হয়। এসব ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার চাপ বেশি থাকায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে মানব পাচার মামলার বিচার। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৪ হাজার ৬০১টি মানব পাচারের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭টি মামলা ঝুলছে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬৪টি মানব পাচার মামলা বিচারাধীন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৭৯টি, রাজশাহী বিভাগে ২৩৫টি, খুলনা বিভাগে ৮৩৩টি, বরিশাল বিভাগে ৩৮৫টি, সিলেট বিভাগে ২২৬টি, রংপুর বিভাগে ৫৮টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১২১টি মানব পাচার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মানব পাচার দেশের সুনামের জন্য যেমন বিড়ম্বনা সৃষ্টি করছে তেমন লাখ লাখ মানুষ তথা পরিবারের জীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। বিভাগীয় পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে মানব পাচার সম্পর্কিত মামলার দ্রুত বিচার সম্ভব হবে। বিলম্বিত বিচার যেহেতু বিচারহীনতার শামিল সেহেতু সে লজ্জা থেকে রেহাই পাওয়ারও সুযোগ ঘটবে। তবে মানব পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। পুলিশের ওপর অদৃশ্য মহলের কোনো চাপ যাতে অনুভূত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

close