শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০৭

তাবলিগ মানব কল্যাণের কার্যক্রম

মুহম্মদ আশ্বরাফ আলী

তাবলিগ মানব কল্যাণের কার্যক্রম

মানব কল্যাণের কার্যক্রম তাবলিগ। মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণের জন্য কাজ করতে হলে, ভালো দিয়ে মন্দের মোকাবিলা করতে হলে বিনয়ী ও ধৈর্যশীল হতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের মর্যাদা বুঝতে হবে। মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। হৃদয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা পয়দা না হলে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করা সম্ভব নয়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার কর, রূঢ় আচরণ কর না, সুসংবাদ দাও, ভীতসন্ত্রস্ত কর না।’ (বুখারি ও মুসলিম)। আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাকো হিকমত বা কৌশ্বল সহকারে ও উত্তম নসিহতের মাধ্যমে এবং বিতর্ক কর উত্তম পন্থায়।’ (সূরা নাহল, আয়াত-১২৫)।

তাবলিগ জামাত মুসলিম উম্মাহর একটি দাওয়াতি কাফেলা, নিঃস্বার্থ ও সুশৃঙ্খলভাবে যারা কোরআন ও সুন্নাহর বাণী নিয়ে দুনিয়ার দেশে দেশে অসংখ্য জনপদে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে সিরাতে মুস্তাকিমের পথে নিয়ে আসতে এ কাফেলার সদস্যরা নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি কার্যক্রমের এক মহাসম্মিলন। বিপথগামী মানুষকে আল্লাহ এবং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে আনার জন্য দেওবন্দের নিবেদিতপ্রাণ মুরব্বি হজরত ইলিয়াস (রহ.) ভারতের মেওয়াতে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম শুরু করেন। স্বল্প পরিসরে তিনি গুটিকয়েক সঙ্গী নিয়ে পথভোলা মানুষকে হেদায়েতের পথে আনার যে মিশ্বন শুরু করেন তা মানুষের মধ্যে সাড়া জাগায়। ১৯৪১ সালে মেওয়াতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ইজতেমা। বাংলাদেশে এ দাওয়াতি কার্যক্রম ১৯৪৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। মাত্র দুই বছর পর ১৯৪৬ সালে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের তাবলিগের মারকাজ কাকরাইল মসজিদে। এর দুই বছর পর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে ইজতেমা শুরু হয়। এরপর ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, তারপর ১৯৬৫ সালে টঙ্গীর পাগার এবং সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে তুরাগ তীরে টঙ্গীর ভবেরপাড়ে অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত তুরাগ পাড়ের ওই স্থানের ১৬০ একর জায়গায় তাবলিগের সর্ববৃহৎ ইজতেমা বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাবলিগ জামাতের কার্যক্রমে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ আল্লাহর পথে ফিরে আসছেন। নামাজ-রোজাসহ ইবাদতে নিজেদের সমর্পণ করছেন। ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করে তুলছেন এ জামাতের সদস্যরা। সদাচরণ এবং ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করাকে তারা কর্তব্য বলে বেছে নিচ্ছেন। বিশ্ব ইজতেমায় আল্লাহপ্রেমিকরা ছুটে আসেন মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টির আশায়। জাগতিক লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে ওঠার মহৎ গুণ অর্জনের যে শিক্ষা তারা পান তাবলিগের দাওয়াতি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তা হানাহানিমুক্ত একটি শান্তির সমাজ গড়ার ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তাবলিগ জামাত মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের কল্যাণ নিশ্চিত করার সুমহান মিশ্বন হিসেবে দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ যে ধর্মপ্রাণ, সেই সত্যটি দুনিয়ার সব দেশের মুসলমানদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার মতো একটি মহতী উদ্যোগ প্রতি বছর সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে। বিশ্ব ইজতেমার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের একাত্মতা দেওবন্দের দাওয়াতি কার্যক্রমের বিজয় নিশানকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।

                লেখক : ইসলামী গবেষক।


আপনার মন্তব্য