শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৫

সর্বনাশা রাসায়নিক গুদাম

কার স্বার্থে টিকে আছে পুরান ঢাকায়?

সর্বনাশা রাসায়নিক গুদাম

এক বছরেও চকবাজারের ‘চুড়িহাট্টা গণহত্যা’র হোতাদের সাজা দেওয়া দূরের কথা তাদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যায় চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রাণ হারায় ৭১ জন নিরপরাধ মানুষ। এ ঘটনার পর অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত কীভাবে হলো, এর দায় কার তা নির্ণয়ে যথারীতি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ঢাকঢোল পিটিয়ে চুড়িহাট্টা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরানোর জন্য শুরু হয় কসরত। অভিযান শুরু হয় বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে। কিন্তু পুরো তৎপরতাই আইওয়াশ ছিল কিনা সে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। কারণ অগ্নিকান্ড সম্পর্কিত মনোযোগ একটু কমতেই স্থগিত হয়ে যায় রাসায়নিক গুদাম সরানোর অভিযান। নিহতদের মধ্যে তিনজনের লাশ এক বছরেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে একেবারে ঢিমেতালে। তদন্তের দায়িত্ব যাদের তারা এ ব্যাপারে আদৌ উৎসাহী বলে মনে হয় না। চুড়িহাট্টা বিপর্যয়ের পর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম উচ্ছেদে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান চালানো হলেও কাক্সিক্ষত ফল মেলেনি। ৩৩ দিন অভিযান পরিচালনা করে ১৭০টি রাসায়নিক গুদাম সিলগালা করা হয়। এরপর বোধগম্য কারণে সে অভিযান থেমে যায়। এখনো পুরান ঢাকায় সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্ত আড়াই হাজার রাসায়নিক গুদামের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির মতো আরও একটি ট্র্যাজেডি ঘটে যেতে পারে যে কোনো সময় কাউকে সতর্ক না করেই। স্মর্তব্য, পাঁচটি টিমের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে চুড়িহাট্টা ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন রাসায়নিক গুদাম সিলগালা এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ির বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এভাবে চলতে চলতে অভিযানটি একপর্যায়ে গুদাম মালিকদের বাধার সম্মুখীন হয়। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এ অভিযান ১ এপ্রিল বন্ধ হয়ে যায়। এপ্রিল ফুলের শিকার হয় পুরান ঢাকাবাসী। তারপর আগের চেহারায় ফিরে যায় পুরান ঢাকা। এখন সেখানে রাসায়নিক গুদামে আগের মতো বেচাকেনা চলছে। এক বছর আগে নিমতলীর অগ্নিকান্ডের পর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে গণদাবি জোরদার হয়ে ওঠে। কিন্তু ওই অঘটনের জন্য দায়ী রাসায়নিক গুদাম অপসারণের উদ্যোগ থেমে যায় ব্যবসায়ীদের টাকার জোরে। মানুষের জীবনের চেয়েও কিছু ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের মুনাফার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় অবস্থা যথাপূর্বংই থেকে গেছে; যা দুর্ভাগ্যজনক।


আপনার মন্তব্য