শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৬

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু

অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখুন

সিলেটে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আশার কথা, এ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সঠিক পথই বেছে নিয়েছেন এবং মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। যুবকের মৃত্যুর বিষয়ে অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরের বিরুদ্ধে। তাকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার পর থেকে তিনি পলাতক। রবিবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট মহানগরের নেহারীপাড়ার রায়হান উদ্দিনকে ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহী। হাসপাতালে ভর্তির ৭০ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফাঁড়িতে নির্যাতনের পরিণতিতে মৃত্যুর অভিযোগ তুললে তদন্তে নামে পুলিশ। মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহর আলী শেখকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পান। পরে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশি হেফাজতে আসামি হত্যার অভিযোগ উঠেছে যে এসআইয়ের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত তিনি। রাস্তা থেকে নিরপরাধ লোকজনকে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে অর্থ আদায় করা হতো এমন অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে ছিল ওই এসআইয়ের সখ্য। সিলেটের মেট্রোপলিটন পুলিশ একজন এসআইয়ের অপরাধের দায় লোপাটের বদলে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। আমরা আশা করব, করোনাকালে পুলিশের শিরস্ত্রাণে যে সোনালি পালক সংযোজিত হয়েছে তার সৌন্দর্য রক্ষায় তারা যত্নবান হবেন। পুলিশের পোশাককে যারা দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের

বদলে উৎকোচ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে- এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য