শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০৯

আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দেন

মুহাম্মদ আশরাফ আলী

আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে উত্তম কোনো আমল নেই। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত।’ তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজা। আমলের দিক থেকেও দোয়া শ্রেষ্ঠতর। তিরমিজিতে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে উত্তম কোনো আমল নেই। দয়ালু আল্লাহ চান বান্দা সব সময় তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদন করুক। আল্লাহ বান্দার দোয়া মঞ্জুর করতে সব সময়ই প্রস্তুত। তবে দোয়া করার সময় দোয়ার আদবগুলো যাতে পালিত হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। দয়ালু আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হলে খাস মনে করতে হবে। যিনি দোয়া করবেন তাকে হালাল আয়ের অধিকারী হতে হবে। যারা হারাম আয়ের ওপর নির্ভরশীল, যারা হারাম আয় করে তাদের দোয়া আল্লাহ কবুল না-ও করতে পারেন। আল্লাহর অনুগ্রহ চাইতে হলে নিজেদের আগে শুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ সুরা গাফির আয়াত ৬০। তবে আল্লাহকে ডাকার ক্ষেত্রে তিনি যাতে সন্তুষ্ট হন তা নিশ্চিত হতে হবে। মনে রাখতে হবে, হারাম পানাহার দোয়া কবুলের অন্তরায়। এ ব্যাপারে হজরত রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এমন এক ব্যক্তি যে দীর্ঘ সফর করে পদযুগল করেছে ধুলায় ধূসরিত। এরপর আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করেÑ হে প্রভু! হে প্রভু!! কিন্তু তার খাদ্যও হারাম, পানীয়ও হারাম। এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ মুসলিম। হারাম বা অবৈধ পদ্ধতির মাধ্যমে অর্জিত পোশাক পরিধান করা অবস্থায় দোয়া করলে সে দোয়া কবুল হয় না। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘কোনো এক ব্যক্তি ৪ দিরহাম দ্বারা একটি কাপড় কিনল। এর মধ্যে যদি মাত্র ১ দিরহাম হারাম থাকে এমন কাপড় পরিধান করে নামাজ পড়লে তার নামাজ কবুল হবে না।’ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ না করলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের প্রতি আজাব নাজিল করবেন। এরপর তোমরা দোয়া করবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করবেন না।’ দোয়ায় অমনোযোগী হলে অর্থাৎ দোয়াকারী দোয়া অবস্থায় উদাস বা অমনোযোগী থাকলে তার দোয়া কবুল হয় না। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দোয়া কবুল হবে এমন দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তোমরা দোয়া করবে। আর জেনে রেখ আল্লাহ কোনো উদাস অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।’ তিরমিজি, হাকেম। তাড়াহুড়া করলে  দোয়ার সুফল মিলবে না। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া করার পর কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করলে সে দোয়া কবুল হয় না।’ মুসলিম।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক


আপনার মন্তব্য