শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৮

রসুল (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য মনোনীত নবী

মুহম্মাদ ওমর ফারুক


রসুল (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য মনোনীত নবী

কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষের জান্নাত প্রাপ্তি নির্ভর করবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশের ওপর। আল্লাহ রব্বুল আলামিন সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন বিশ্ব তথা মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে। হজরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে দুনিয়ার বুকে প্রথম নবীর আগমন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে নবী-রসুলের আগমন পর্বের সমাপ্তি টানা হয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি হলেন বিশ্ববাসীর জন্য মনোনীত নবী। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে তারা তাঁর উম্মতের মধ্যেই গণ্য হবে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামাজিক জীবনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। অর্থসম্পদ অর্জন, সঞ্চয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রয়াস চালান তিনি। প্রাক-ইসলাম সমাজে ধনসম্পদ ছিল শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। তাই মানুষ অর্থসম্পদ অর্জনের পেছনে ছুটেছে বেপরোয়াভাবে। বৈধ-অবৈধ, হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পুণ্য এসব ধার ধারেনি। মানুষ হয়েছে অর্থসম্পদের দাস আর অর্থসম্পদ হয়েছে তাদের প্রভু। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহিনির্ভর যে দর্শন পেশ করেন তাতে মানুষের সব কর্মকান্ড কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিবেদিত বলে বিবেচনা করা হয়। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকার এ মহান জিম্মাদারি তাঁর উম্মতের মাঝে যারা কোরআন-হাদিসের জ্ঞানে জ্ঞানী তাদের ওপর দিয়েছেন। তিনি এ কথাও বলেছেন, তার পরে যদি কেউ নবী হতো সে হতো ওমর (রা.)। কিন্তু পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবে না। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে যে হাজার হাজার নবী-রসুল এসেছেন তাদের বিশেষ সম্প্রদায়ের নবী-রসুল হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আখেরি নবীর আগমন ঘটেছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ সুরা আম্বিয়া আয়াত ১০৭। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ায় এসেছিলেন মিথ্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখতে। যারা সত্যের পথের অনুসারী তাদের আখিরাতের জীবনে কীভাবে পুরস্কৃত করা হবে তার বার্তাবাহক হিসেবে। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি, অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ সুরা সাবা আয়াত ২৮। অন্যত্র মানব জাতিকে লক্ষ্য করে মহান স্রষ্টা ইরশাদ করেছেন, ‘মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন। বরং তিনি হলেন আল্লাহর রসুল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’ সুরা আল আহজাব আয়াত ৪০।

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের কথা কোরআনের পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোতেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বনি ইসরাইল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পাঠানো রসুল, সত্যতা বিধানকারী সেই তাওরাতের, যা আমার আগে এসেছে, আর সুসংবাদদাতা এমন একজন রসুলের যে আমার পরে আসবে, যার নাম হবে আহমদ।’ সুরা  আস-সফ আয়াত ৬। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীনে অটল থাকার তোৗফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য