শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৮

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি

ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

ভাষা আন্দোলনের গৌরবান্বিত দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে রক্ত দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, শফিকসহ নাম জানা-অজানা বাংলা মায়ের সেরা সন্তানরা। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানে পাকিস্তানি শাসকরা বাধ্য হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বিকশিত হয় বাঙালির স্বাধিকার চেতনা। যার চূড়ান্ত রূপ প্রতিফলিত হয়েছে ১৯৭০-এর নির্বাচনে। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সে অবিনশ্বর চেতনা বাঙালির জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করে। ভাষাশহীদদের এ দিনটি এখন সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয় জাতিসংঘের উদ্যোগে। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার সমুন্নত রাখার শপথ নেওয়া হয় এই দিনে দুনিয়াজুড়ে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানে ১৯৪৭ সালের মধ্য আগস্টে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র। বাঙালি মুসলমানরাই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু পাকিস্তান অচিরেই ভারত থেকে আসা উদ্বাস্তু উর্দুভাষী রাজনীতিক, আমলা ও সেনাপতিদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। পাকিস্তানের শতকরা ৫ ভাগ মানুষ উর্দুভাষী না হলেও তারা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে না নেওয়ার ধৃষ্টতা দেখায় পাকিস্তানের ক্ষমতাদর্পী শাসকরা। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ’৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে নির্বিচার গুলি চালায় পাকিস্তানি পুলিশ। একুশের শহীদদের রক্তদান বাঙালি জাতিকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস জোগায়। এ সাহসই ছিল ’৭১ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধেও তা বিবেচিত হয়েছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে। একুশের পথ ধরেই অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরে বাংলা প্রতিষ্ঠার দায় পূরণে উদ্যোগী হতে হবে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের হার না মানা চেতনা সঙ্গী করে দেশ গঠনে ব্রতী হতে হবে। অমর একুশের এই দিনে ভাষাশহীদদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।