শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০২১ ২৩:৫৯

রমজানের প্রস্তুতি

বাজার নিয়ন্ত্রণে আগেভাগে ব্যবস্থা নিন

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো অসৎ ব্যবসায়ীদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান আমলে এ অশুভ প্রবণতার শুরু। স্বাধীনতার পর ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সমানে বিদ্যমান ছিল সে ধারাবাহিকতা। গত এক যুগে রমজানের সময় ইফতার ও সাহরি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার মোটামুটি সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু এ বছর কী হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়। রমজানে অন্য সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবহৃত হয় সয়াবিন তেল, পিঁয়াজ ও চিনি। পিঁয়াজের দাম ইতিমধ্যে ৫০ টাকায় ঠেকেছে। নিম্নমানের মুড়িকাটা পিঁয়াজের দাম কখনো ২০ টাকা কেজির বেশি ওঠেনি গত ৫০ বছরেও। সয়াবিনের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় গত চার-পাঁচ মাসে দেশি বাজারে অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে। রমজানে তা আরও বাড়বে না এমন কথা বলতে পারছেন না খোদ বাণিজ্যমন্ত্রীও। চিনির বাজারেও থাবা বিস্তার করেছে মূল্যবৃদ্ধির দানব। বিশেষজ্ঞদের মতে রমজানে মূল্যবৃদ্ধির দানবকে সামাল দিতে দ্রব্যসামগ্রীর বাজার দুই ভাবে মনিটর করা জরুরি। একটি হলো, যারা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে তাদের সক্রিয়তা বাড়াতে হবে। এ-সংক্রান্ত যে আইন আছে তার বাস্তবায়নও জরুরি। অন্যটি হলো, বিকল্পভাবে বাজারে পর্যাপ্ত দ্রব্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জবরদস্তি, মামলা-মোকদ্দমা বা জরিমানা করে সমস্যার সমাধান হবে না। বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো গেলে ভোক্তারা অপেক্ষাকৃত কম দামে কিনতে পারবেন। অনেক সময় চাহিদা বাড়বে এ আগাম বার্তা পেয়ে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। তা নিয়ন্ত্রণে জোরালোভাবে বাজার মনিটর করতে হবে। ট্যারিফ কমিশন রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেগুলোর যৌক্তিক মুনাফা সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে। সরকার সে দাম তৃণমূল থেকে রাজধানী পর্যন্ত বাস্তবায়নে মনিটর করবে। এটি সম্ভব হলে রমজানে এ বছরও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। স্বস্তিতে থাকবেন রোজাদাররা।


আপনার মন্তব্য