শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০২১ ২২:৪৬

ইখলাসহীন আমল পচে গলে যাওয়া লাশ

আল্লামা মাহ্মূদুল হাসান

Google News

ইখলাস হচ্ছে আসল, আর আমল ইখলাসের ক্রিয়ার স্থল। ইখলাসবিহীন আমল পচে-গলে যাওয়া লাশ, যার ঠিকানা জাহান্নাম। ইখলাসের অধিক গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ ইমাম বুখারিসহ মুহাদ্দিসিনে কিরাম ‘সমস্ত আমল সঠিক নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ এ হাদিসটিকে কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন। হজরত শায়খুল হিন্দের (রহ.) মতে বিশ্বরসুলের অসাধারণ ইখলাস হচ্ছে নবুয়তের যোগ্যতার প্রধান উৎস। রসুলের সুন্নত। সাধারণ অর্থে সুন্নত বলা হয় বিশ্বরসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কিরামের আদর্শ ও তরিকাকে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার এবং খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নতই অনুসরণীয়।’

অন্য এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘ছয় ধরনের লোকের প্রতি আল্লাহ, সমস্ত নবী-রসুল এবং আমার লানত-অভিশাপ বর্ষিত হয়, তার মধ্যে একজন হচ্ছে যে আমার সুন্নতকে তরক করে।’ আর ফিকাহ শাস্ত্রের দৃষ্টিতে সুন্নত হচ্ছে ওয়াজিব এবং ফরজ ছাড়া একটি স্তর। তবে আমলের ক্ষেত্রে সুন্নতে মুয়াক্কাদা ওয়াজিবতুল্য। সুন্নতের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন, সুন্নতকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা অনবরত তরক করা যার ফলে সুন্নত মিটে যায়, এটা অত্যন্ত বড় গুনাহ ও মহাপাপ। অনুরূপভাবে সুন্নতবিহীন ফরজ-ওয়াজিব আদায় করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না; বরং ইমানি মৃত্যু। নসিব না হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে। এর একটি অকাট্য প্রমাণ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসের মর্ম মোতাবেক একজন সাহাবি একে একে তিনবার নামাজ আদায়করত বিশ্বরসুলের দরবারে হাজির হলে রসুল (সা.) তাকে পুনঃ পুনঃ নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন। এ হাদিসের অন্য সূত্রে হজরত হুজায়ফা (রা.) বলেন, ‘এ অবস্থায় তোমার মৃত্যু হলে তা হবে নবী-আদর্শের পরিপন্থী মৃত্যু।’ সাহাবির নামাজ। কী কারণে রসুল (সা.) উক্ত সাহাবিকে নামাজ পুনর্বার আদায় করতে নির্দেশ করেছিলেন, এর উত্তর হাদিসে এভাবে উল্লেখ হয়েছে- তার রুকু ও সিজদা অপরিপূর্ণ ছিল। এ অপরিপূর্ণতার কারণে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিকে নামাজ পুনরায় আদায় করতে নির্দেশ দেন এবং সাহাবিও পুনরায় আদায় করেন। ফিকাহের দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে বিরাট প্রশ্নের উদয় হয়। ... কেননা এর দ্বারা বোঝা যায় এই সাহাবি তাঁর নামাজে ওয়াজিব ও ফরজসমূহ সঠিকভাবে আদায় করেছিলেন, কেবল সুন্নত তরক হয়েছিল। কারণ সুন্নত তরকের কারণেই নামাজ অপরিপূর্ণ হয়, কিন্তু বাতিল হয় না। সুতরাং দোহরানোর হুকুম ও হজরত হুজায়ফা (রা.)-এর ভয়ংকর বাণী বাহ্যত অসংগতিপূর্ণ মনে হয়। এ প্রশ্ন এবং এর উত্তর আমি কোথাও খুঁজে পাইনি। তবে সুন্নত আদায়ের বেলায় চারটি সুরত হতে পারে। ক. নামাজে সুন্নত তরকের অভ্যাস নেই, ঘটনাক্রমে সুন্নত তরক হয়ে গেলে অবগত হয়ে নামাজি ব্যক্তি অনুতপ্ত ও দুঃখিত হয়। এ অবস্থায় নামাজ দুরস্ত হয়ে যায়। অবশ্য সওয়াব কম হয়।

লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।