রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

ঝরে পড়া শিক্ষার্থী

কারণ চিহ্নিত করে প্রতিকার করুন

সরকার আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে সফলতা দাবি করছে শিক্ষার হার তার অন্যতম। সরকারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে; যদিও বেসরকারি সংস্থার হিসাবে এ হার আরও কম। স্বাধীনতার পর গঠিত কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীতের সুপারিশ করেছিল। তবে কোনো সরকার সে সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। আমাদের অনেক অঙ্গীকারই কাজির গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেইর মতো। এর ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। করোনা মহামারীতে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী আরও বাড়তে পারে। এটা রোধ করতে হলে প্রথমে সমস্যার কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। জানতে হবে এ পর্যায়ে এসে কী কী কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। সমাজের কোন শ্রেণির সন্তানদের মধ্যে ঝরে পড়ার হার বেশি। ধনী বা সচ্ছল পরিবারের তুলনায় দরিদ্র বা অসচ্ছল পরিবারে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বেশি কি না; অঞ্চলবিশেষে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কারণও রয়েছে কি না এসব খতিয়ে দেখতে হবে। কারণগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপকভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন। করোনাকালে অনেক শিক্ষার্থীই অর্থনৈতিক কারণে, অভাব-অনটনে পড়ে পড়াশোনা বাদ দিয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে যারা বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে বা শিশুশ্রমে জড়িত, তাদের ফিরিয়ে আনা কঠিন কাজ। তবে ঝরে পড়া এসব শিক্ষার্থীর জন্য একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া উচিত। যে খাতে বিনিয়োগের সুফল মিলবেই। বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থী আশঙ্কাজনকভাবে ঝরে পড়লে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব শুধু অর্থনীতিতেই নয়, সমাজেও পড়বে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর পরিবারগুলোকে একটু সহায়তা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তির আওতায় নিয়ে আসতে পারলে দু-তিন বছরের মধ্যেই এর ব্যাপক সুফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি শিক্ষা যাতে ভীতিকর না হয়ে আগ্রহের বিষয় হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

এই রকম আরও টপিক