প্রতীক বরাদ্দের পর রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। বুধবার প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে।
রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, হাতপাখা, লাঙলসহ বিভিন্ন প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছেন প্রচারণা।
ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস রংপুর-১ ও ২ এ
রংপুর-১: গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী (লাঙল), জামায়াতের রায়হান সিরাজী (দাঁড়িপাল্লা), বাসদ (মার্কসবাদী)-এর আহসানুল আরেফিন (কাঁচি), ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা) ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আনাস (মোমবাতি)। এখানে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাঠে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রচারণার কাছে লাঙলের প্রচারণা ম্লান।
রংপুর-২: বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাপার আনিছুল ইসলাম মণ্ডল (লাঙল), বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী (হাতপাখা) ও জেএসডির আজিজুর রহমান (তারা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয়দের মতে, এখানেও ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।
জাপার গুরুত্বপূর্ণ আসন রংপুর-৩ এখনো নীরবতা
রংপুর-৩ : রংপুর সদর ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত এই আসনে আটজন প্রার্থী লড়ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাপার জিএম কাদের (লাঙল), বিএনপির সামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ), জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা) ও ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল (হাতপাখা)সহ অন্যরা। প্রতীক পাওয়ার পর জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীদের মাঠে দেখা গেলেও জাপার তৎপরতা তেমন চোখে পড়েনি, যদিও এটি জাতীয় পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আসন।
রংপুর-৪ আসনে লড়বে বিএনপি ও এনসিপি
পীরগাছা ও কাউনিয়া নিয়ে গঠিত এই আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ) ও এনসিপির আখতার হোসেন (শাপলা কলি) এখানে আলোচনায়। তবে জাপা প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
রংপুর-৫ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে জামায়াত, রংপুর-৬ এ বিএনপি
রংপুর-৫ : মিঠাপুকুর আসনে দশজন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতের গোলাম রব্বানী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির গোলাম রব্বানী (ধানের শীষ) ও জাপার এসএম ফখর উজ জামান (লাঙল) এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন (হাতপাখা), নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাব (কেটলি), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি’র আবু হেলাল (কাস্তে), আমার বাংলাদেশ পার্টি’র আব্দুল বাছেত (ঈগল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মাকর্সবাদী) বাবুল আক্তার (কাঁচি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান (ডাব)। প্রচারণায় জামায়াতের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির সাইফুল ইসলাম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া (লাঙল), জামায়াতের নুরুল আমীন (দাঁড়িপাল্লা), আমার বাংলাদেশ পার্টির ছাদেকুল ইসলাম (ঈগল), ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার শাহিদুল ইসলাম (ফুটবল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিয়া জাহান চৌধুরী (সূর্যমূখী)। এই আসনে বিএনপি প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, রংপুরে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার এসেছে। আশা করি জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।
রংপুর সদর আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে উন্নয়নের স্বার্থে এবার রংপুরের মানুষ দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেবেন।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন