চট্টগ্রামে এককভাবে ভোট যুদ্ধে নেমেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ১৬টি আসনের মধ্যে ১২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। তবে বাকি ৪টি আসনে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দলকে সমর্থন দেয়নি। ফলে ভোটের মাঠে একা নামতে হচ্ছে দলটির প্রার্থীদের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রামে দলটির নির্দিষ্ট কোনো ভোট ব্যাংক না থাকলেও চরমোনাই ভক্ত রয়েছে কয়েকটি আসনে। ফলে এক ডজন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নামলেও জয়ী হয়ে আসার মতো সম্ভাবনা নেই। তবে সুন্নী ও কওমীপন্থী দুটি ধারা ভোট ভাগ হওয়ার কারণে কিছুটা সুবিধা করতে পারবে হাতপাখার প্রার্থীরা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম-১ মীরসরাই আসনে ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে মো. দিদারুল মাওলা, চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে মতি উল্লাহ নূরী, চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে আবদুল্লাহ আল হারুন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোহাম্মদ নুরুল আলম, চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনে আব্দুস শুক্কুর, চট্টগ্রাম-১০ ডবলমুরিং-হালিশহর-পাহাড়তলী আসনে মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে মো. নূর উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে এসএম বেলাল নূর, চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক আসনে মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে শরীফুল আলম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে হাফেজ রুহুল্লাহকে প্রার্থী ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
এরআগে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দলের সাথে নির্বাচনী জোট করলেও শেষ মুহুর্তে বের হয়ে আসে। ফলে ভোটের মাঠে সারাদেশে এককভাবে অংশ নিচ্ছে দলটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের যে ১২টি আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে তারমধ্যে অন্য দলের প্রার্থীদের তুলনায় হেভিওয়েট প্রার্থী নেই দলটিতে। এ ছাড়াও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি ভোট পাননি দলটির প্রার্থীরা।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম ২০২১ সালে চসিক মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে মাত্র ৫ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। অতিতের নির্বাচনে দলটির এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে নির্দিষ্ট কোনো ভোট ব্যাংক নেই বলে মনে করলেও দলটির নেতাদের দাবি, আগের নির্বাচনগুলো কারচুপির নির্বাচন। এবারের চিত্র ভিন্ন। ১৬টি আসনের মধ্যে তারা কমপক্ষে দুটি আসনে জয় পাবে। বাকিগুলোতে অন্য দলের প্রার্থীদের কাছাকাছি ভোট তাদের হাতপাখার পক্ষেই আসবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর আমীর ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম-২ ছাড়া সব আসনে প্রার্থী দিয়েছি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-৩ আসনে আমরা জয় পাব বলে আশা করছি। বাকি আসনে জয়লাভ করতে পারার মতো সমর্থন আমাদের নেই। তবে অন্য প্রার্থীর তুলনায় আমাদের প্রার্থীর ভোট কাছাকাছি থাকবে। আগের নির্বাচনগুলো কারচুপি ও রাতের ভোট।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক