শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:২০

আমার পাওয়া হয়ে গেছে

আমার পাওয়া হয়ে গেছে
ছবি : রাফিয়া আহমেদ

সব্যসাচী চক্রবর্তী! নামেই যার পরিচয়। আলাদা করে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোনো দরকার হয় না। বাঙালি দর্শকের কাছে তিনি ‘ফেলুদা’ হিসেবেই পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গের বড় পর্দার জগতেও তিনি খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। করেছেন কিছু হিন্দি সিনেমায় অভিনয়। বাংলাদেশি নির্মাতা ফাখরুল আরেফিন খানের ‘গন্ডি’ চলচ্চিত্রটির প্রচার-প্রচারণায় তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিন অফিসে। ৭ তারিখে মুক্তিপ্রাপ্ত

‘গন্ডি’ ছবি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন-  পান্থ আফজাল

 

 

কেমন লাগছে বাংলাদেশ?

খুব ভালো লাগছে। যদিও এবার প্রথমবার আসা নয়; আগেও অনেকবার এসেছি। প্রত্যেকবার যেমন ভালো লেগেছে, এবারও তেমনি।

 

কাল ‘গণ্ডি’ মুক্তি পাচ্ছে। এই ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

প্রথমত হচ্ছে, ফাখরুল আরেফীন এই ছবির প্রযোজক এবং পরিচালক। এবং সে যখন এসে আমাকে বলে যে, এই ছবিটা হতে চলেছে। আর আমি চাই, আপনি এই ছবিতে কাজ করুন। তখন আমি ভেবেছিলাম, আমি কেন! আমি তো পুলিশ, নয় গুন্ডা, গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেছি। গন্ডি ছবিতে এমন চরিত্রের জন্য আমাকে কেন পছন্দ করেছেন! তার মনে হয়েছে যে, আমাকে এই চরিত্রে খুবই মানাবে। (মৃদু হাসি)। আমি শুনে বললাম, আপনি কি ১০০% কনফিডেন্ট? তিনি প্রতিউত্তরে বললেন, মোর দ্যান কনফিডেন্ট! তখন আমি বললাম, ঠিক আছে। আপনি যদি কনফিডেন্ট থাকেন, আমি করতে রাজি আছি। তবে, যদি খারাপ হয় তাহলে এর দায়ভার কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে। তিনি সব মেনে নিলেন। এরপর যখন শুটিং করতে এলাম, দেখলাম তিনি আমাকে ডিরেকশন দিচ্ছেনই না! কি সুন্দরভাবে বলটা আমার কোটে ফেলে দিলেন। এবার যদি খারাপ হয়, লোকে বলবে আমার কারণেই হয়েছে। আমাকে গালাগাল দেবে। কারণ তিনি কোনো ডিরেকশনই দেননি... হা হা হা। আমি যা করেছি, তাই নাকি তার কাছে ঠিক। তবে আমার মনে হয়, সবকিছু ঠিক হতে পারে না। পরিচালক যেহেতু ছবিটি বানাচ্ছেন, যেভাবে বলছেন, আমি ঠিক সেভাবেই শট দিয়েছি। আনন্দের সঙ্গে কাজ করেছি। অপেক্ষায় আছি ছবি দেখে দর্শক কি বলেন! ভালো বললে আমারও আনন্দ লাগবে।

সহশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে পেয়েছেন। তার সঙ্গে বোঝাপড়াটা কেমন ছিল?

তার সঙ্গে প্রথম কাজ। ভীষণ ভালো! এর আগে তো তার কাজ দেখেছি। সেটাও বহুদিন আগে। টেলিভিশনে দেখেছিলাম। একসময় তার যখন সিরিয়াল চলত, তখন রাস্তা ফাঁকা হয়ে যেত লোকজন দেখবে বলে। সেটা মনে হয় ‘কোথাও কেউ নেই’। মুনা চরিত্রে কি অনবদ্য করতেন! গন্ডি ছবিতে কাজের সুবাদে সব জেনে-শুনে দেখলাম, তিনিও কাজ করছেন। মনে হলো, যাক একজন গুণী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে। তাই আমিও হ্যাঁ বলে ফেললাম। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তো আরও ভালো।

 

দুজনের কাজের মুহূর্তে মজার কোনো অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা শেয়ার করা যায়?

বিশেষ কোনো মুহূর্ত সে অর্থে নেই। তবে যেটা আমি খুব সুযোগ পেয়েছি, যা আগে পাইনি এই ছবিটি করতে গিয়ে। সেটা হলো, বিচ-স্কুটার চালিয়ে দারুণ মজা পেয়েছি। আগে কোনোদিনই এটি চালাইনি। এবং আমি কক্সবাজারের বিচে গিয়ে খুব আনন্দ পেয়েছি। সেখানে প্যারাসেইলিং হচ্ছে, ওয়াটার স্কুটার চালানোর মজা রয়েছে। ঘোড়ায় চড়া যায়। এতকিছু একটা বিচে রয়েছে, এটা দেখে আমার খুবই ভালো লাগছে। এবং এটা একটা ওয়ান্ডারফুল টুরিস্ট ডেস্টিনেশন! আমি জানি না, আমাদের বিচে এমন ও এত বিচ রাইডিং সুবিধা আছে কিনা! যদিও আমি সি-সাইট অর্থাৎ সমুদ্র পছন্দ করি না। 

 

জেনেছি অরণ্য পছন্দ আপনার...

হুম। আমার জঙ্গল পছন্দ। পাহাড়-সমুদ্র আমাকে তেমন করে টানে না, যেভাবে অরণ্য টানে। জঙ্গল টানে, সেটা পাহাড় বা সমুদ্রের ধারে হোক না কেন।

 

সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘ফেলুদা’ জীবন্ত হয়েছে আপনার অভিনীত চরিত্রে। পরবর্তী কোন ‘ফেলুদা’ সিরিজে আপনাকে দেখতে পাব?

সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কোনো কাজ করার সৌভাগ্য হয়নি। তার লেখা ‘ফেলুদা’য় কাজ করেছি। তবে ফেলুদার কোনো সিরিজে আর কাজ করব কিনা সেটা প্রযোজক-নির্মাতা ভাববেন। তারা ডাকলে আমি কাজ করতে ইচ্ছুক। তবে তারা যদি মনে করে আমার থেকে বেটার কাউকে পেয়েছেন, তাহলে তাকেই নেবে; এটা কোনো ব্যাপার নয়! ফেলুদার মতো ছিলেন আমার বাবা। তাই জন্ম থেকেই ফেলুদাকে ধারণ করেছি।

 

সব্যসাচী নামের মতোই আপনি বিভিন্ন চরিত্রে সপ্রতিভ। গণ্ডির ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির চরিত্রে কতটা সাবলীল ছিলেন আপনি?

আমার প্রত্যেকটাই অভিনয়। আমি কখনো ওইভাবে অ্যানালাইসিস করি না একেকটি চরিত্র। আমি যে চরিত্রে অভিনয় করি, সেটা যদিও ফেলুদাও হয়, সেটা আমি নই। আবার গন্ডিতে যেটি করেছি, সেটাও আমি নই। আমি তো একটি চরিত্র। প্রত্যেকটি চরিত্রেই এক একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর পরিচালক যেরকম চান, সেভাবেই পর্দায় আমি আবির্ভূত হই। আমি সব্যসাচী... হা হা হা!

 

আমাদের এখানকার ছবি কী তেমন করে দেখা হয়?

না, সব দেখা হয় না। সব কি, কোনোটাই দেখি না। আমি তো আমাদের ওখানকার ছবিই তেমন দেখি না। হলিউডের ছবি বা হিন্দি ছবিও দেখি না। কিছুই দেখি না। ‘ময়রায় মিষ্টি খায় না’-একটা কথা আছে না। ঠিক সেরকম আমিও।

 

দুই দেশের মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণে কোনো পার্থক্য দেখেছেন?

পার্থক্য সেই অর্থে বলা যায় না। প্রায় একই রকম। হয়তো বলতে পারি যে, ওখানে অনেক ছবি আছে যেগুলো অনেক নিম্ন মানের হয়। এখানে যে আরেফীন ভাই ছবি করেছেন তার থেকেও। আবার কিছু কিছু ছবি আছে যেগুলো আরেকটু উন্নতমানের হয়। কিন্তু এসবই কিন্তু রিলেটেড ফান্ডিংয়ের সঙ্গে জানেনই তো! যদি ভালো ফান্ডিং ও ইকুইপমেন্ট থাকে তাহলে পরিচালক যেরকম চাইছেন সেভাবেই হতে পারে।

 

এমন কোনো চরিত্রের প্রতি আক্ষেপ রয়েছে কি যা কখনো করেননি বা করতে চান?

আমার কোনো আক্ষেপ নেই। কিচ্ছু নেই চাওয়া-পাওয়ার। আমার সব পাওয়া হয়ে গেছে। ফেলুদা চরিত্র করাই একমাত্র ইচ্ছা ছিল। সেটা পেয়ে গেছি। নতুন করে আর কোনো চরিত্র পাওয়ার ইচ্ছা নেই। সত্যজিৎ রায় যখন পড়েছি, তখন খুবই আকৃষ্ট হতাম। তার ফেলুদা চরিত্রে নিজেকে ভেবেছি। সেটা পূরণ হয়েছে। তাই আমি পরিপূর্ণ।

 

আপনার দুটি ছেলেও অভিনয় করছেন। বাবার মতো হয়েছে নাকি তারা বাবাকেও ছাড়িয়ে যাবে মনে করছেন?

বাবার মতো হতে তো সবাই চায়। আমার মতো নয়; আমার থেকে আরও বেটার হবে তারা। অনেক উন্নত ধরনের কাজ করছে তারা। এসবের মূল কারণ মনে হয়, তারা অনেক কিছুতেই বেশি এক্সপোজড। যেটা আমাদের সময় ছিল না। অ্যামাজান প্রাইম, নেটফ্লিক্স বা ইউটিউব খুললেই আমরা এখন অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছি। অনেক অপশন। সো, তারা তো বাবার থেকে অনেক বেশি এগিয়ে যাবেই।

 

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। গণ্ডির জন্য শুভ কামনা!

আপনাকেও ধন্যবাদ।


আপনার মন্তব্য