কেন এই পুরস্কার
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ও সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৭৫ সাল থেকে এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে প্রথম আজীবন সম্মাননা পুরস্কার চালু করা হয়। বাংলাদেশ সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ব্যক্তিবিশেষকে এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করে থাকে।

গোলাম মুস্তাফা ও মোশাররফ করিম
পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন যাঁরা
‘জননী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৭৭ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে শাবানাকে নির্বাচন করা হলেও তিনি সে পুরস্কার গ্রহণ করেননি। ১৯৮২ সালে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার পুরস্কার পেলেও তা গ্রহণ করেননি সৈয়দ শামসুল হক। সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৮৩ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য পুরস্কার পেয়েও তা নেননি। ‘নতুন বউ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯০ সালে গোলাম মুস্তাফাকে ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার জন্য পুরস্কার দেওয়া হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা হিসেবে মনোনীত হন মোশাররফ করিম, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।

হ্যাটট্রিক করেন ববিতা
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের প্রথম বছরেই সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান ববিতা ‘বাঁদি থেকে বেগম’ ছবির জন্য। এরপর ১৯৭৬ (নয়নমণি) ও ১৯৭৭ সালে (বসুন্ধরা) একটানা আরও দুবার এই পুরস্কার জিতে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে হ্যাটট্রিক করার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পান শাবানা ও আলমগীর
অভিনেত্রী শাবানা মোট ৯ বার এ সম্মাননা পান-জননী ১৯৭৭, সখী তুমি কার ১৯৮০, দুই পয়সার আলতা ১৯৮২, নাজমা ১৯৮৩, ভাত দে ১৯৮৪, অপেক্ষা ১৯৮৭, রাঙ্গা ভাবী ১৯৮৯, মরণের পরে ১৯৯০, অচেনা ১৯৯১। অন্যদিকে নায়ক আলমগীর মোট সাতবার এই সম্মাননা পান-মা ও ছেলে ১৯৮৫, অপেক্ষা ১৯৮৭, ক্ষতিপূরণ ১৯৮৯, মরণের পরে ১৯৯০, পিতা মাতা সন্তান ১৯৯১, অন্ধ বিশ্বাস ১৯৯২, দেশপ্রেমিক ১৯৯৪।
এ ছাড়া দুজনই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান।
১৯৭৫
অভিনেতা-আনোয়ার হোসেন (লাঠিয়াল), অভিনেত্রী- ববিতা (বাঁদি থেকে বেগম)।
১৯৭৬
অভিনেতা-রাজ্জাক (কী যে করি), অভিনেত্রী-ববিতা (নয়নমণি)।
১৯৭৭
অভিনেতা- বুলবুল আহমেদ (সীমানা পেরিয়ে), অভিনেত্রী-ববিতা (বসুন্ধরা)।
১৯৭৮
অভিনেতা-(যৌথভাবে) রাজ্জাক (অশিক্ষিত), বুলবুল আহমেদ (বধূ বিদায়), অভিনেত্রী- কবরী (সারেং বৌ)
১৯৭৯
অভিনেত্রী-ডলি আনোয়ার (সূর্য দীঘল বাড়ী)। অভিনেতা হিসেবে কেউ পায়নি।
১৯৮০
অভিনেতা-বুলবুল আহমেদ (শেষ উত্তর), অভিনেত্রী- শাবানা (সখী তুমি কার)
১৯৮২
অভিনেতা-রাজ্জাক (বড় ভালো লোক ছিল), অভিনেত্রী- শাবানা (দুই পয়সার আলতা)
১৯৮৩
অভিনেতা-সোহেল রানা (লালু ভুলু), অভিনেত্রী- শাবানা (নাজমা)।
১৯৮৪
অভিনেতা- রাজ্জাক (চন্দ্রনাথ), অভিনেত্রী-শাবানা (ভাত দে)।
১৯৮৫
অভিনেতা-আলমগীর (মা ও ছেলে), অভিনেত্রী-ববিতা (রামের সুমতি)
১৯৮৬
অভিনেতা-গোলাম মুস্তাফা (শুভদা), ইলিয়াস কাঞ্চন (পরিণীতা), অভিনেত্রী আনোয়ারা (শুভদা), অঞ্জনা (পরিণীতা)
১৯৮৭
অভিনেতা-(যৌথভাবে) আলমগীর (অপেক্ষা), এটিএম শামসুজ্জামান (দায়ী কে?) অভিনেত্রী- শাবানা (অপেক্ষা)
১৯৮৮
অভিনেতা-রাজ্জাক (যোগাযোগ), অভিনেত্রী- রোজিনা (জীবনধারা)
১৯৮৯
অভিনেতা-আলমগীর (ক্ষতিপূরণ), অভিনেত্রী-শাবানা (রাঙ্গা ভাবী)
১৯৯০
অভিনেতা-আলমগীর (মরণের পরে), অভিনেত্রী-শাবানা (মরণের পরে)।
১৯৯১
অভিনেতা-আলমগীর (পিতা মাতা সন্তান), অভিনেত্রী-শাবানা (অচেনা)।
১৯৯২
অভিনেতা-আলমগীর (অন্ধ বিশ্বাস), অভিনেত্রী-ডলি জহুর (শঙ্খনীল কারাগার)।
১৯৯৩
অভিনেতা-রাইসুল ইসলাম আসাদ (পদ্মা নদীর মাঝি), অভিনেত্রী-চম্পা (পদ্মা নদীর মাঝি)
১৯৯৪
অভিনেতা-আলমগীর (দেশপ্রেমিক), অভিনেত্রী-বিপাশা হায়াত (আগুনের পরশমণি)
১৯৯৫
অভিনেতা-রাইসুল ইসলাম আসাদ (অন্য জীবন), অভিনেত্রী-চম্পা (অন্য জীবন)।
১৯৯৬
অভিনেতা-সোহেল রানা (অজান্তে), অভিনেত্রী- শাবনাজ (নির্মম)।
১৯৯৭
অভিনেতা-রাইসুল ইসলাম আসাদ (দুখাই), অভিনেত্রী-সুচরিতা (হাঙর নদী গ্রেনেড)।
১৯৯৮
অভিনেতা-ফেরদৌস (হঠাৎ বৃষ্টি), অভিনেত্রী বিভাগে কেউ পায়নি।
১৯৯৯
অভিনেতা-জাহিদ হাসান (শ্রাবণ মেঘের দিন), অভিনেত্রী-শিমলা (ম্যাডাম ফুলি)।
২০০০
অভিনেতা-রিয়াজ (দুই দুয়ারী), অভিনেত্রী-চম্পা (উত্তরের খেপ)
২০০১
অভিনেতা- রাইসুল ইসলাম আসাদ (লাল সালু), অভিনেত্রী-মৌসুমী (মেঘলা আকাশ)।
২০০২
অভিনেতা-কাজী মারুফ (ইতিহাস)। অভিনেত্রী বিভাগে কেউ পায়নি।
২০০৩
অভিনেতা-মান্না (বীর সৈনিক), অভিনেত্রী-পপি (কারাগার)।
২০০৪
অভিনেতা-হুমায়ুন ফরীদি (মাতৃত্ব), অভিনেত্রী-অপি করিম (ব্যাচেলর)।
২০০৫
অভিনেতা-মাহফুজ আহমেদ (লাল সবুজ), অভিনেত্রী-শাবনূর (দুই নয়নের আলো)।
২০০৬
অভিনেতা-আরমান পারভেজ মুরাদ (ঘানি), অভিনেত্রী-নাজনীন হাসান চুমকি (ঘানি)।
২০০৭
অভিনেতা-রিয়াজ (দারুচিনি দ্বীপ), অভিনেত্রী- জাকিয়া বারী মম (দারুচিনি দ্বীপ)
২০০৮
অভিনেতা-রিয়াজ (কী যাদু করিলা), অভিনেত্রী পপি (মেঘের কোলে রোদ)।
২০০৯
অভিনেতা-ফেরদৌস (গঙ্গাযাত্রা) ও চঞ্চল চৌধুরী (মনপুরা), অভিনেত্রী-পপি (গঙ্গাযাত্রা)
২০১০
অভিনেতা-শাকিব খান (ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না), অভিনেত্রী-পূর্ণিমা (ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না)।
২০১১
অভিনেতা-ফেরদৌস (কুসুম কুসুম প্রেম), অভিনেত্রী- জয়া আহসান (গেরিলা)।
২০১২
অভিনেতা-শাকিব খান (খোদার পরে মা), অভিনেত্রী- জয়া আহসান (চোরাবালি)।
২০১৩
অভিনেতা-তিতাস জিয়া (মৃত্তিকা মায়া), অভিনেত্রী- মৌসুমী (দেবদাস), শর্মীমালা- (মৃত্তিকা মায়া)।
২০১৪
অভিনেতা-ফেরদৌস (এক কাপ চা), অভিনেত্রী-মৌসুমী (তারকাঁটা) ও মিম (জোনাকির আলো)।
২০১৫
অভিনেতা (যৌথভাবে) মাহফুজ আহমেদ (জিরো ডিগ্রি), শাকিব (আরো ভালোবাসব তোমায়), অভিনেত্রী জয়া (জিরো ডিগ্রি)।
২০১৬
অভিনেতা- চঞ্চল (আয়নাবাজি), অভিনেত্রী-নুসরাত ইমরোজ তিশা (অস্তিত্ব), কুসুম শিকদার (শঙ্খচিল)।
২০১৭
অভিনেতা- (যৌথভাবে) আরিফিন শুভ (ঢাকা অ্যাটাক), শাকিব (সত্তা), অভিনেত্রী-নুসরাত ইমরোজ তিশা (হালদা)।
২০১৮
অভিনেতা (যৌথভাবে) ফেরদৌস (পুত্র) ও সায়মন সাদিক (জান্নাত), অভিনেত্রী-জয়া আহসান (দেবী)।
২০১৯
অভিনেতা-তারিক আনাম খান (আবার বসন্ত), অভিনেত্রী-সুনেরাহ বিনতে কামাল (ন’ডরাই)।
২০২০
অভিনেতা-সিয়াম (বিশ্বসুন্দরী), অভিনেত্রী-দীপান্বিতা মার্টিন (গোর)।
২০২১
অভিনেতা-(যৌথভাবে) সিয়াম (মৃধা বনাম মৃধা) ও মীর সাব্বির (রাতজাগা ফুল), অভিনেত্রী (যৌথভাবে) আজমেরী হক বাঁধন (রেহানা মরিয়ম নূর) ও তাসনুভা তামান্না (নোনাজলের কাব্য)।
২০২২
অভিনেতা-চঞ্চল চৌধুরী (হাওয়া), অভিনেত্রী (যৌথভাবে)-জয়া আহসান (বিউটি সার্কাস) ও রিকিতা নন্দিনী শিমু (শিমু)।
২০২৩
অভিনেতা-আফরান নিশো (সুড়ঙ্গ), অভিনেত্রী- আইনুন পুতুল (সাঁতাও)।
(২০২৩ সালের পুরস্কার ঘোষিত হলেও এখনো প্রদান করা হয়নি)।