শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ নভেম্বর, ২০১৫ ২৩:৩৭

প্রকাশক হত্যা নিয়ে গোলকধাঁধা

সন্দেহভাজন তিনজনের খোঁজে গোয়েন্দারা

সাখাওয়াত কাওসার

প্রকাশক হত্যা নিয়ে গোলকধাঁধা
দীপন হত্যার প্রতিবাদে বই পুড়িয়ে গতকাল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে প্রকাশকরা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন তিন যুবককে খুঁজছে র‌্যাব। তারা আজিজ সুপার মার্কেট ও এর আশপাশ এলাকায় ওইদিন ঘোরাঘুরি করেছিল। দীপন গাড়ি চালিয়ে আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেটে ঢোকার সময়ও ওই যুবকরা তাকে অনুসরণ করছিল বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র। অন্যদিকে, দীপন হত্যা এবং শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একের পর এক রাজনৈতিক বক্তব্য আসায় অনেকটা গোলকধাঁধায় পড়েছেন গোয়েন্দারা। তবে দীপন হত্যার ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান। শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে তিনজনকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন টুটুল নিজেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ম্যানুয়েল সোর্সের মাধ্যমে দুটি ঘটনারই তদন্ত কার্যক্রম চলছে। দুটি ঘটনাকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। শাহবাগ থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে মোহাম্মদপুর থানার হত্যাচেষ্টা মামলাটিও থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি তদন্ত করছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজিজ সুপার মার্কেটের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ভবনটিতে প্রবেশের ১৫টি পথ রয়েছে। তবে মাত্র ৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা মনিটরিং করা হচ্ছে; যা মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। মুক্তচিন্তার লেখক-গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং প্রগতিশীল মননের মানুষের এখনো প্রথম পছন্দের স্থান শাহবাগের আজিজ মার্কেট। অথচ ২ বছর ধরে উগ্রপন্থিরা একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালানোর পরও আজিজ মার্কেটের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা হয়নি। সূত্র আরও জানায়, শনিবার বেলা ২টা ২১ থেকে ২টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত আজিজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলার অন্তরে রেস্তোরাঁয় অবস্থান করছিলেন দীপন। ওই রেস্টুরেন্টেই শেষবারের মতো দুপুরের খাবার খেয়েছিলেন তিনি। মার্কেটের ৯৭-৯৮ এবং ১০২ থেকে ১২৩ নম্বর দোকান নিয়ে ওই রেস্টুরেন্ট। অন্তরে রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। ৮টি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত শনিবারের ফুটেজও গতকাল সংগ্রহ করেছেন তারা।

অন্তরে রেস্তোরাঁর মালিক ইফতেখার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক দিনের বন্ধু আমরা। দুপুরের দিকে আজিজ মার্কেটে থাকলে আমার হোটেলেই খাবার খেত সে। এখন বার বার পুরনো স্মৃতিই চোখে ভাসছে। তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমরা আর দেখতে চাই না। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লবকুমার সরকার বলেন, হত্যাচেষ্টা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আমরা অনেকটাই নিশ্চিত উগ্রপন্থি জঙ্গিদের কাজ এটি। আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে যথেষ্ট মিল রয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর