শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ নভেম্বর, ২০১৫ ২৩:৪২

ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চুয়েট বন্ধ, চবিতে অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চুয়েট বন্ধ, চবিতে অস্ত্র উদ্ধার
ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষে আহত এক পুলিশ সদস্য (ডানে) -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বিকালের মধ্যে ছাত্র ও আজ সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ছয় কনস্টেবল, ছাত্রলীগ চবি শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর পুলিশ দুটি হলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার ও ৩৫ জনকে আটক করেছে। জানা যায়, রবিবার বিকালে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও যুগ্ম আহ্বায়ক মুসলেম উদ্দিনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। চুয়েটের ভিসি ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। এ সময় পরীক্ষাসহ কোনো ধরনের শিক্ষাকার্যক্রমও চলবে না। 

জানা যায়, রবিবার দুপুরে চবির জিরোপয়েন্টে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনায় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের গ্রুপের কথা কাটাকাটি হয়। গতকালও পরীক্ষার্থীদের বরণ করতে চবির প্রধান ফটকে রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এ সময় শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি। সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় ক্যাম্পাসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেটসহ টিয়ার শেল ছুড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল হোসেন, কনস্টেবল এনামসহ পুলিশের ছয় সদস্য, ছাত্রলীগের ৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়।

সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ও শাহজালাল হলে তল্লাশি চালিয়ে কয়েক বস্তা লাঠিসোঁটা এবং পাথর উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০-৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর