Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৭

বিশ্ব যতটা উন্মুখ, ততটা নন আমেরিকানরা

ফরিদা ইয়াসমিন, নিউইয়র্ক থেকে

বিশ্ব যতটা উন্মুখ, ততটা নন আমেরিকানরা

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ভোর ৬টায় বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোর ৬টা থেকে ভোট শুরু হলেও বিভিন্ন রাজ্যে এর সময়সীমা বিভিন্ন। নিউইয়র্কে ভোট গ্রহণ ৬টা থেকে ৯টা, নিউজার্সিতে ৬টা থেকে ৮টা, কানেকটিকাটে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ভোটদানের সময়। ভোর ৬টা থেকেই বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা আসতে শুরু করেন। ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন সকাল ৮টায় তার এলাকা নিউইয়র্কের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির চাপাকুয়ায় ভোট দেন। তার সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোট দেন ম্যানহাটনের পি এস ৫৭ কেন্দ্রে। হিলারির রানিংমেট টিম কেইন ভার্জিনিয়ায় এবং ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক কেন্স ইন্ডিয়ানায় ভোট দিয়েছেন। তবে উল্লেখ করার মতো হচ্ছে যে, ব্যালট পেপারে বাংলায় নির্দেশনা দেওয়া ছিল। এই নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর হাডসন নদীতে হিলারির যে বিজয় উৎসব ও আতশবাজির পরিকল্পনা ছিল তা নিউইয়র্ক পুলিশের অনুরোধে নিরাপত্তার স্বার্থে বাতিল করা হয়েছে। নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে বার বার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে কোনো নির্বাচনী সমস্যায় এই নম্বরে যোগাযোগ করতে। তবে এই নির্বাচন নিয়ে সারা বিশ্ব উন্মুখ হয়ে থাকলেও তেমন একটা আগ্রহ নেই এ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। বৃহত্তম এই গণতান্ত্রিক দেশটিতে ভোটদানে উৎসাহ দিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই। তারা এখানে ব্যাপকভাবে হিলারির পক্ষে প্রচারণাও চালিয়েছেন।

হিলারি জিতলে বাংলাদেশিদের লাভ কী— এই প্রশ্নে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসান বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় সব অভিবাসীর জন্য, মুসলমানদের জন্য হিলারিই মঙ্গলজনক। হিলারির ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা, তার চরিত্রের দৃঢ়তা ট্রাম্পের চেয়ে শতগুণ ভালো। তবে অনেকে মনে করেন, হিলারি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি হবে; যা ভুল ধারণা। সরকার বদলের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বদলায় না। এটা ঠিক, হিলারি ক্ষমতায় এলে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পেনসিলভানিয়ায় ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ নির্বাচনী প্রচারে তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। হিলারির শেষ নির্বাচনী প্রচারে সোমবার গভীর রাতে সমাবেশে স্বামী বিল ক্লিনটন, কন্যা চেলসিয়া এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উপস্থিত ছিলেন।

চেলসিয়া বলেন, ‘দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার মা আমাদের গর্বিত করবেন।’ এদিকে ট্রাম্পের শেষ নির্বাচনী সভায় স্ত্রী মেলিনা ট্রাম্প, কন্যা ইভাঙ্কা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইভাঙ্কা তার পিতাকে ‘রাজনৈতিক সম্পদ’ বলে উল্লেখ করে ভোট চান। মার্কিন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পাশাপাশি অফিস-আদালত সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে ভোটদানে কাজ থেকে কিছুক্ষণের জন্য ছুটি নিতে পারবেন। এখন সারা বিশ্বের মানুষ উন্মুখ হয়ে দেখার অপেক্ষায় আছেন কে হতে যাচ্ছেন ক্ষমতাধর দেশটির প্রেসিডেন্ট। কারণ এই দেশটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি।


আপনার মন্তব্য