Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০১৯ ২২:৫৮

বদরের যুদ্ধ

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

বদরের যুদ্ধ

হিজরি ২য় সনের ১৭ রমজান মদীনার অদূরে ৮০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে বদর নামক স্থানে নবদীক্ষাপ্রাপ্ত মুসলমানদের সঙ্গে কাফেরদের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ হয়। মাহে রমজানে সংঘটিত এ যুদ্ধ যা ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ নামে খ্যাত, তা ছিল নবীন ইসলামী রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্নে অতীব তাৎপর্যপূর্ণ। কোরআনুল করিমে এই যুদ্ধের বিবরণ ও বিশেষত্ব সম্পর্কে বহু আয়াতে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বিশেষভাবে প্রণিধান যোগ্য কিছু আয়াত হলো- “দুটি দলের পরস্পর সম্মুখীন হওয়ার মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এক দল আল্লাহর পথে সংগ্রাম করছিল, অন্য দল কাফির ছিল, তারা তাদেরকে চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের জন্য শিক্ষা রয়েছে। (৩ সংখ্যক সূরা আল ইমরান, আয়াত ১৩)। ‘এবং বদরের যুদ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে আল্লাহ্ তো তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ স্মরণ কর, যখন তুমি মুমিনগণকে বলছিলে, ‘এটা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক প্রেরিত তিন সহস্র ফিরিশতা দ্বারা তোমাদেরকে সহায়তা করবেন?’ হ্যাঁ, নিশ্চয়, যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং সাবধান হয়ে চল তবে তারা দ্রুতগতিতে তোমাদের ওপর আক্রমণ করলে আল্লাহ পাঁচ সহস্র চিহ্নিত ফিরিশতা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন। এটা তো কেবল তোমাদের জন্য সুসংবাদ ও তোমাদের চিত্ত-প্রশান্তি-হেতু আল্লাহ করেছেন। এবং সাহায্য শুধু পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট থেকে হয়”। (ঐ। আয়াত ১২৩-১২৬)। মুসলমানদের হাতে বন্দী শক্র সৈন্যরা পরবর্তীকালে সাক্ষ্য দেয় যে, যুদ্ধের সময় তারা মুসলমান বাহিনীকে দ্বিগুণ অবস্থায় দেখে। মহানবী (সা.)-এর সমর কৌশলে এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাহায্যে তা সম্ভবপর হয়েছিল। যুদ্ধের প্রাক্কালে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘...আমি তোমাদেরকে সাহায্য করব এক সহস্র ফিরিশতা দ্বারা যারা একের পর এক আসবে। আল্লাহ তা করেন কেবল শুভ সংবাদ দেওয়ার জন্য এবং এ উদ্দেশ্যে যাতে তোমাদের চিত্ত প্রশান্তি লাভ করে; এবং সাহায্য তো শুধু আল্লাহর নিকট হতেই আসে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (৮ সংখ্যক সূরা আনফাল, আয়াত ৯-১০)। “হে মুমিনগণ! তোমরা যখন কাফির বাহিনীর সন্মুখীন হবে তখন তোমরা তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না; সেদিন যুদ্ধ কৌশল অবলম্বন কিংবা দলে স্থান লওয়া ব্যতীত কেহ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে তো আল্লাহর বিরাগ-ভাজন হবে এবং তার আশ্রয় জাহান্নাম, আর উহা কত নিকৃষ্ট! তোমরা তাদেরকে বধ কর নাই, আল্লাহ্ই তাদেরকে বধ করেছেন, এবং তুমি যখন নিক্ষেপ করেছিলে তখন তুমি নিক্ষেপ কর নাই, আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন এবং ইহা মুমিনগণকে আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম পুরস্কার দান করবার জন্য; আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। এটাই তোমাদের জন্য, আল্লাহ কাফিরদিগের ষড়যন্ত্র দুর্বল করেন।” (ঐ। আয়াত ১৫-১৮)

মক্কা হতে মদীনায় হিজরতের পর ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ইসলামের প্রসার প্রয়াসকে অংকুরেই সমূলে ধ্বংস করবার লক্ষ্যে মক্কায় কোরাইশ বংশের অধিপতিরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তাদের এই ষড়যন্ত্রে যোগ দেয় স্থানীয় ইহুদি ও অদূরবর্তী কিছু খ্রিস্টান। আবু সুফিয়ান ছিলেন মস্তবড় ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা কাফেলা সিরিয়ার পথে যাতায়াত করত। আবু সুফিয়ানের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বিখ্যাত কোরাইশ নেতা ও যোদ্ধা আবু জেহেলের সক্রিয় অংশগ্রহণে বদর প্রান্তরে এ যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামের প্রতিষ্ঠালগ্নে, যখন এর শত্র“রা ছিল প্রবল ও পরাক্রমশালী, তখন সংখ্যায় স্বল্পতা হেতু মুসলমানরা ছিল স্বাভাবিকভাবেই হীনবল। সে সময় আল্লাহর সাহায্য ছিল অপরিহার্য।

লেখক : সাবেক সচিব ও এন বি আরের সাবেক চেয়ারম্যান।


আপনার মন্তব্য