Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:০৭

চামড়া বিক্রি করবেন না আড়তদাররা

ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চামড়া বিক্রি করবেন না আড়তদাররা

বকেয়া ৪০০ কোটি টাকা না পেলে ট্যানারি মালিকদের কাছে আর কাঁচা চামড়া বিক্রি করবেন না আড়তদাররা। তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেছেন, আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্টদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আছে। এ বৈঠকে আলোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে কোনো চামড়া বিক্রি হবে না।

গতকাল রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কাঁচা চামড়া আড়তদারদের জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন- বিএইচএসএমএ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিকদের কারণে চামড়ার দাম কমেছে। ট্যানারিগুলো বকেয়া টাকা না দেওয়ায় এবার কোরবানিতে টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারিনি। অন্যান্য বছর ঈদের আগের দিন আড়তদারদের সঙ্গে আলোচনা করলেও এবার তারা কোনো কথা বলেননি। তারা যদি আমাদের আশ্বস্ত করতেন, ন্যায্য দামে চামড়া কিনতেন, তাহলে এ পরিস্থিতি হতো না। কিন্তু এটি না করে উল্টো মিডিয়ার কাছে নানা কথা বলেছেন। এ কারণে আরও দর কমেছে। ট্যানারি মালিকরাই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। এদিকে পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক গতকাল থেকেই সীমিত আকারে পশুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করার কথা জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ। তার দাবি, গতকাল ময়মনসিংহ থেকে আমাদের অনেকেই লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া কিনেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা সেখান থেকে কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করেছি। এখন প্রতিদিনই যে যার মতো কাঁচা চামড়া কিনবেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামে আগামী দুই মাস চামড়া সংগ্রহ করা হবে। অপরদিকে কাঁচা চামড়া রপ্তানি প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হয়নি। তবে আমরা এটাও জানি যে, ঢালাওভাবে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করার অনুমোদন দিলে দেশে চামড়াশিল্প উন্নয়নে কিছু বাধা তৈরি হবে। আমরা চাই না একটা সম্ভাবনাময় খাত বাধাগ্রস্ত হোক। তাই বলে আমরা এ-ও হতে দিতে পারি না যে, চামড়া বিক্রি হবে না, দাম না পেয়ে মানুষ চামড়া পুঁতে ফেলবে, নদীতে ফেলে দেবে। তাই আমরা ঢালাওভাবে না দিয়ে কেস টু কেস ভিত্তিতে কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, চামড়ার বাজারে যদি ন্যায্যমূল্য ফিরে আসে তাহলে হয়তো আমরা কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেব না। তবে বিক্রেতারা যদি চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পান, তাহলে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেব। কারণÑ এটা এতিম, গরিব, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হক। এক্ষেত্রে আমরা পানির দরে চামড়া বিক্রি হতে দিতে পারি না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর