শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:২৫

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাওয়া পাল্টাচ্ছে?

জরিপে বাইডেনের কাছাকাছি ট্রাম্প

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাওয়া পাল্টাচ্ছে?

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে, হিসাবও ততই পাল্টে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের জরিপেও পরিবর্তন ঘটছে : জর্জিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডায় বাইডেনের কাছাকাছি এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেনসিলভেনিয়ায় নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ঘনঘন সমাবেশ করছেন ট্রাম্প। মিশিগানেও ট্রাম্পের অবস্থান ক্রমান্বয়ে দৃঢ় হচ্ছে। সোমবার প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে এমন আভাস পাওয়া গেছে। জরিপকারী সংস্থাগুলো এখন আগাম ভোটের গতি-প্রকৃতি নজরে রেখেছে। কারণ, ২০১৬ সালের নির্বাচনে যত আগাম ভোট পড়েছিল তার চেয়ে ১৩৩% বেশি ভোট পড়েছে সোমবার পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ৬ কোটি ২৭ লাখ ভোট জমা হয়েছে ডাকযোগে এবং আগাম ভোট কেন্দ্রে। অথচ নির্বাচনের বাকি এখনো ৭ দিন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে প্রায় সবাই আগাম ভোটকে নিরাপদ ভাবছেন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট এবং আগাম ভোটের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম কারচুপির জিগির তুললেও তিনি নিজে যেমন আগাম ভোট দিয়েছেন, তেমনই ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রিপাবলিকানরাও লাইনে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আগাম ভোট কেন্দ্রে যত মানুষ এসেছিলেন, সে সংখ্যা ২০১৬ সালের মোট সংখ্যার সমান। এরপর পার হলো চার দিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ লাইনে ভোট দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটদের স্টেট নিউইয়র্কেও। অনেক আগে সিটিজেনশিপ নেওয়া সত্ত্বেও যারা আগে ভোট কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী ছিলেন না তেমন বাংলাদেশি তথা দক্ষিণ এশিয়ানদেরও শত শত ভোটারের লাইনে দেখা যাচ্ছে নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাসে। জানা গেছে, ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নানা পদক্ষেপে অতিষ্ঠ হয়ে সবাই বাইডেনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসকে রানিংমেট করায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এশিয়ানরাও ঝুঁকে পড়েছেন বলে সবার ধারণা। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগাম ভোটের এ ধারা ১ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে ২০১৬ সালের মোট ভোট ১৩ কোটি ৯০ লাখকেও ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা নিয়ে এতদিনের জরিপ মাঠে মারা যেতে বসেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বাইডেনের কাছাকাছি উঠতে থাকায়। সোমবার পর্যন্ত টেক্সাসে বাইডেনকে ছাড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, মিশিগানেও কাছাকাছি এসেছেন ট্রাম্প। পেনসিলভেনিয়ায় বাইডেনের চেয়ে বেশি ভোট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এর ফলে গত নির্বাচনের মতো এবারের চূড়ান্ত নির্বাচনের পর সব হিসাব পাল্টে যেতে পারে। উল্লেখ্য, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩টি স্যুইয়িং স্টেটেই বাইডেন এগিয়ে ছিলেন। করোনায় বিপর্যস্ত আমেরিকানদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ‘করোনা স্টিমুলাস বিল’ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্র্যাটদের নানা বাহানায় অতিষ্ঠ স্বল্প আয়ের মানুষ আর ছোট ও মাঝারি তহবিলের ব্যবসায়ীরা। বেকার ভাতার পরিমাণ নিয়ে দর-কষাকষিতে ডেমোক্র্যাটরা অনড় থাকায় এখন পর্যন্ত একটি পেনিও পেলেন না অসহায় মানুষ। উল্লেখ্য, গত মার্চে করোনা রিলিফ বিল অনুযায়ী ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একেকজন ৬০০ ডলার করে পেয়েছেন ফেডারেল তহবিল থেকে। সঙ্গে যোগ হয়েছে স্টেট থেকে দেওয়া অর্থ। অর্থাৎ একেকজন কমপক্ষে ৮০০ ডলার করে পেয়েছেন প্রতি সপ্তাহে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা আগস্ট থেকে পুনরায় একইহারে বেকার ভাতার বিল পাস করেন প্রতিনিধি পরিষদে। অপরদিকে ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট চাচ্ছিল সপ্তাহে সর্বোচ্চ সাড়ে চার শত ডলার। প্রথমে তারা তিন শত ডলারের প্রস্তাব দেয়। এরপর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে দর-কষাকষির এক পর্যায়ে ৪৫০ ডলারে সম্মত হয়। ডেমোক্র্যাটরা অনড় থাকায় সে আলোচনা ভেস্তে গেছে। এর দায় বর্তাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের ওপর। নির্বাচনে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। গত নির্বাচনে নারী হিসেবে আমেরিকানদের অধিকাংশই  (ডেমোক্র্যাটসহ) হিলারি ক্লিনটনকে পছন্দ করেননি। আর এবার স্প্যানিশ আর কিউবান কৃষ্ণাঙ্গদের বড় একটি অংশ বাইডেনকে পছন্দ করছেন না। ওবামার সঙ্গে টানা ৮ বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকেও অবৈধ অভিবাসীদের জন্য কার্যত কিছুই করেননি বাইডেন- নির্বাচনের ময়দানে এ অভিযোগ ক্রমে চাঙ্গা হচ্ছে। সর্বশেষ বিতর্কে ট্রাম্পও একই ঘটনার অবতারণা করেছিলেন। যদিও করোনা মহামারীকে যথাযথভাবে মোকাবিলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প-এ বিষয়টি ভোটারের মধ্যে সদা জাগ্রত রয়েছে।

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করছেন প্রতিনিধি পরিষদের মতোই ইউএস সিনেটের কর্তৃত্ব এবার ডেমোক্র্যাটদের কাছে যেতে পারে। এমন অবস্থা তৈরি হলে ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাহী আদেশ জারি কিংবা সুপ্রিম কোর্টের মুখাপেক্ষী হয়েই কাজ করতে হবে। সর্বশেষ অ্যামি কোনি ব্যারেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে শপথ নেওয়ায় ট্রাম্পের অনুসারী বিচারকরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন। এদিকে, করোনার কারণে আগাম ভোটের পরিধি এবার প্রসার করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড পরিচালিত জরিপে রেজিস্টার্ড ভোটারের ৬০% আগাম ভোটের পক্ষে কথা বলেছিলেন। একইসঙ্গে, ইচ্ছা করলেই যে কেউ ডাকযোগেও ভোট দিতে পারছেন এবার। নিউ হ্যামশায়ার, উইসকনসিন, আরিজোনা, আইওয়া স্টেটও ডাকযোগে ভোটের প্রথা চালু করেছে এবার। এর ফলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণকারী স্টেটগুলোয় ইতিমধ্যেই ৩ কোটি ৪ লাখ ভোট জমা হয়েছে।

এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিদ্যমান সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ানদের মধ্যে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ বিজেপি এবং আওয়ামী লীগের অনুসারী মার্কিন নাগরিকরা ডেমোক্র্যাট হলেও রিপাবলিকান ট্রাম্পকে ভোটদানের কথা ভাবছেন বলে একাধিক জরিপে উদঘাটিত হয়েছে। এক্ষেত্রে কমলা হ্যারিসের ব্যাপারটি গৌণ হয়ে পড়ছে। তবে এ সংখ্যা প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণে কোনো প্রভাব রাখবে বলে কেউ মনে করছেন না। কারণ, ভোটের সংখ্যায় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কানরা একেবারেই নগণ্য।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর