শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৪১

উন্নয়নের বার্তা দেবে থার্ড টার্মিনাল

টার্মিনালের সংযোগ সড়ক সরাসরি যুক্ত হবে মেট্রোরেল লাইন-১ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রস্তাবিত সাবওয়ের সঙ্গে, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আসছে জাপানি কোম্পানি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান

মানিক মুনতাসির

উন্নয়নের বার্তা দেবে থার্ড টার্মিনাল
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণকাজ চলছে থার্ড টার্মিনালের -বাংলাদেশ প্রতিদিন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল হবে বিশ্বের অত্যাধুনিক, দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর সমতুল্য, যেখানে থাকবে ইংল্যান্ডের হিথ্রো, সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডির মতো আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ যে আর্থ-সামাজিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তার একটা ইতিবাচক বার্তা দেবে এই টার্মিনাল। বিমানবন্দরে নেমেই বিদেশি বিনিয়োগকারী, পর্যটকসহ বিদেশ থেকে আগতদের মধ্যে তৈরি করবে ইতিবাচক মনোভাব, যা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পেছনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করে সরকার।

সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন এই তৃতীয় টার্মিনালটির সংযোগ সড়ক সুড়ঙ্গপথে সরাসরি যুক্ত হবে মেট্রোরেল লাইন-১-এর সঙ্গে। মেট্রোরেল লাইন-১ মূলত বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, হাতিরঝিল, মালিবাগ, রাজারবাগ হয়ে কমলাপুরে শেষ হবে। ফলে বিমানবন্দরে নেমেই মেট্রো ধরে যাত্রীরা সরাসরি রেলস্টেশনে যেতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত প্রস্তাবিত সাবওয়ে ও নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এই টার্মিনালটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আসছে জাপানি কোম্পানি। ইতিমধ্যে জাপানের একাধিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে এ টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে চায় সরকার। আশা করা হচ্ছে জাপানি কোম্পানি শিগগিরই এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে। অবশ্য টার্মিনালটি নির্মাণের কাজেও নিয়োজিত রয়েছে জাপানি কোম্পানি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। এটি হবে বিশ্বমানের বিমানবন্দর। থাকবে সব ধরনের অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এটি একটি স্বপ্নের প্রকল্প। এ টার্মিনালের সংযোগ সড়ক সরাসরি যুক্ত হবে মেট্রোরেল লাইন-১ ও প্রস্তাবিত সাবওয়ের সঙ্গে। এতে খুবই সহজ হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিদেশ থেকে আগতদের মধ্যে এই টার্মিনাল এক ধরনের ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করেন তিনি। সূত্র জানায়, থার্ড টার্মিনাল ভবনের সঙ্গে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গপথ ও উড়াল সেতু নির্মাণ করা হবে, যা মেট্রোরেল লাইন-১ ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এতে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের প্রথম ধাপের সঙ্গে বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর আন্তযোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে না। তবে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে কানেকটিং করিডরের মাধ্যমে পুরনো টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। বর্তমানে চালু ভিভিআইপি কমপ্লেক্সটি ভেঙে ফেলা হবে। তৃতীয় টার্মিনালে স্বতন্ত্র কোনো ভিভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে না। তবে টার্মিনাল ভবনের ভিতরে দক্ষিণ পাশে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভিভিআইপিদের সময় কাটানোর জন্য থাকবে পৃথক জায়গা।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময় ২০২৩ সালের জুনের আগেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর নির্মাতা কোম্পানি। এ জন্য করোনার কারণে মার্চ থেকে জুন সময়ে কাজ করতে না পারায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে বর্তমানে দিনরাত কাজ করছেন শ্রমিক-প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা। আশা করা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। বিশ্বখ্যাত কোরিয়ান শীর্ষ কোম্পানি স্যামসাং ও জাপানের সুমিজি যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। গত বছর ২৮ ডিসেম্বর এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ টার্মিনালের মোট আয়তন হবে ৩০ লাখ বর্গফুট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে ২ কোটি যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। বর্তমানে প্রতিবছর ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে পারে বিমানবন্দরটি। সে হিসাবে শুধু থার্ড টার্মিনালের কারণেই অতিরিক্ত আরও ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। বহুল আলোচিত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে দ্রুতগতিতে। সর্বশেষ গত বছর ১০ ডিসেম্বর একনেক বৈঠকে সংশোধনী ও ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়। মূল প্রকল্পে ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনীর পর প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। মোট খরচের মধ্যে সরকার দিচ্ছে ৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার এবং ঋণ হিসেবে জাপানের জাইকা দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ভিভিআইপি টার্মিনালের সুবিধা সংযুক্তিসহ মূল টার্মিনাল ভবন-৩ এবং কার্গো কমপ্লেক্সের কাজের পরিধি পরিবর্তন ঘটেছে, উন্নত ভবন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা, পৃথক আমদানি-রপ্তানি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, তৃতীয় টার্মিনালে থাকবে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ। প্রথম ধাপে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ চালু করা হবে। উড়োজাহাজ রাখার জন্য থাকবে ৩৬টি পার্কিং বে। বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস চেক ইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেক ইন কাউন্টার থাকবে। এ ছাড়া ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ থাকবে ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার। আগমনীর ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেক ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট ও ১৯টি চেক ইন অ্যারাইভাল কাউন্টার থাকবে। এর বাইরে টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য চারটি পৃথক বেল্ট স্থাপন করা হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ১ হাজার ৩৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর