শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০

ড্রোন আসছে অবৈধভাবে

বিক্রির জন্য দেওয়া হয়নি লাইসেন্স

জিন্নাতুন নূর

ড্রোন আসছে অবৈধভাবে

বাংলাদেশে  মনুষ্যবিহীন আকাশযান অর্থাৎ ড্রোন অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। ‘ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০’-এ ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন কিছুটা সহজ করা হলেও তা আমদানির ব্যাপারে রয়েছে কিছু জটিলতা। ড্রোন বাণিজ্যিকীকরণ ও বিক্রির জন্যও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবসায়ীদের কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। কিন্তু এর পরও রাজধানীর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে বিক্রি হচ্ছে আমদানিকৃত ব্যয়বহুল ড্রোন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন যারা যথাযথ নিয়ম না মেনে বিদেশ থেকে ড্রোন এনে বিক্রি করছেন তারা অবৈধভাবেই তা করছেন। ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, নীতিমালায় থাকা কঠিন শর্তাবলির কারণে সহজে ড্রোন আমদানি করা সম্ভব নয়। তাদের অনেকেই আবার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ব্যয়বহুল এসব ড্রোন আমদানি করছেন। ঢাকার কয়েকজন ড্রোন ব্যবসায়ী জানান, দেশে বড় আকারের ড্রোন উড়াতে হলে প্রতিবার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। কিন্তু ব্যবহারকারীদের পক্ষে এই অনুমতি সবসময় নেওয়া সম্ভব না। কারণ এজন্য বেশ কিছু কাগজপত্র লাগে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে পর্যটকদের সুবিধার্থে দেশের পর্যটন এলাকাগুলোকে সরকার গ্রিন এলাকার মধ্যে রাখতে পারে। তারা আরও জানান, এখন পর্যন্ত ড্রোন আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো নীতিমালা জারি হয়নি। বৈধভাবে ড্রোন আমদানি করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর ট্যাক্স ফাইল করে ড্রোন আমদানি করতে হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও সরকারি কোনো সংস্থা যদি ড্রোন আমদানি করতে আগ্রহী হয় সে ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই প্রয়োজনীয় সব কাগজ সংগ্রহ করে দেয়। আপাতত বৈধভাবে ড্রোন আমদানি করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ সরকারি, সামরিক এবং বিশেষ কিছু বেসরকারি কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষেই বিদেশ থেকে ড্রোন আমদানি করার সুযোগ পাচ্ছে। বলা যায়, দেশে অবৈধ দামি মোবাইলগুলো যেভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হচ্ছে একইভাবে অবৈধভাবে ড্রোনও আমদানি করা হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার ড্রোন দিয়ে ছবি তোলার ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করলেও ড্রোন সহজে কীভাবে আমদানি করা হবে সে বিষয়ে নীতিমালায় কিছু সুস্পষ্ট নেই। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, সরকার যখন ড্রোনের নীতিমালাটি তৈরি করে তখন সেখানে ড্রোনের কিছু ক্যাটাগরি তৈরি করে দেওয়া হয়। এখানে কিছু আছে খেলনা ক্যাটাগরির ড্রোন। সাধারণত খেলনাজাতীয় ড্রোন উড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি লাগে না। কিন্তু প্রফেশনাল ড্রোন উড়ানোর জন্য অবশ্যই ব্যবহারকারীকে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। এগুলোর জন্য আমদানি নীতিও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যারা এখন বিদেশ থেকে ড্রোন আমদানি করছে তারা অবশ্যই তা অবৈধভাবে করছে। কারণ ড্রোন আমদানি করতে হলে একজনকে অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে তা আনতে হবে। যারা ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই ড্রোন উড়াচ্ছেন তারাও অবৈধ কাজ করছেন। আর আমাদের ড্রোন পলিসি করা হয়েছে অবৈধ এসব কর্মকান্ড বন্ধের জন্য। বিমান উড্ডয়নের জন্যও এটি বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক সময় বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন উড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় ড্রোন উড়ানোর জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার নিচে ড্রোন উড়াতে পারবে। তবে শহর এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপরে ড্রোন উড়াতে অনুমতি লাগবে। যারা আইন না মেনে দেশে ড্রোন আমদানি করে তা বিক্রি করছে তারা অবশ্যই অবৈধ কাজ করছে। আর ড্রোনের অপব্যবহার থেকেও বিপদ বাড়ছে। এগুলো জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,  ড্রোন-সংক্রান্ত নীতিমালা হয়েছে কিন্তু এটি আইপিওতে ইনকরপোরেট হতে হবে কিংবা একটি নির্বাহী আদেশ হলেও ড্র্রোন আমদানি করা যাবে। এজন্য এনবিআর কর্তৃপক্ষকে হয়তো একটি সার্কুলার জারি করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের সহকারী নিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ড্রোন আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যদি কোনো নির্দেশনা দেয় তবেই আমরা কিছুটা শিথিল হই। আমাদের এখানে আমদানির ক্লিয়ারেন্স পারমিট নিয়ে আসতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হলেও এখন বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের কনটেন্ট তৈরি, চলচ্চিত্র ও নাটকের শুটিং কাজ, বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিওর কাজে অনেকে ড্রোন ব্যবহার করছেন।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার বাইরেও প্রফেশনাল ভ্রমণকারী ও ইউটিউবাররা এখন ড্রোন কিনছেন। ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে এখন বিদেশ থেকে আমদানিকৃত আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন বিক্রি করা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর