শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২০

উপহারের টিকা বণ্টন কীভাবে

কাল আসবে ভারতের ২০ লাখ ডোজ, বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিতে মুখ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক, সম্মুখসারির কর্মীদের দিয়ে শুরু হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

উপহারের টিকা বণ্টন কীভাবে

বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উপহার হিসেবে দিচ্ছে ভারত। আগামীকাল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে এ টিকা দেশে পৌঁছার কথা। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের বাণিজ্যিক চালানের আগে এ টিকা আসায় তা আগে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অধিকাংশ ডোজ রাজধানীর কভিড-১৯ হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনসূত্রে জানা গেছে, আজ শিডিউল থাকলেও পরে আগামীকাল উপহারের এ টিকা পাঠানোর শিডিউল করা হয়েছে। এ ২০ লাখ ডোজ টিকা প্রয়োগের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়নে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে সভা হয়েছে। ২০ লাখ ডোজ টিকার সব ধরনের কর মওকুফ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উপহারের বাইরে সেরামের কাছ থেকে টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মা ও সেরামের মধ্যে চুক্তিও আছে। এ চুক্তি অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা। উপহারের এ টিকার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আশা করি আমাদের শিডিউল অনুযায়ী আসবে। আগামীকাল শিডিউল আছে অথবা পরশু আসবে। এটিই সবশেষ খবর। ভারত এ টিকা পৌঁছে দেবে। আমি বিমানবন্দরে গ্রহণ করব।’ গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের কিছু টিকা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এক সপ্তাহ পর সব জেলায় শুরু করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে চারটি, উপজেলায় দুটি ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি দল টিকা দেওয়ার কাজ করবে। কয়েকটি দল কাজ করবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। প্রায় ২৮ হাজার ভলান্টিয়ার এ কাজে যুক্ত থাকবেন। প্রাথমিকভাবে ইউনিয়নগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা হিসাব করে প্রতিদিন আনুমানিক ২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই টিকা নিচ্ছেন- বাংলাদেশে এমন কিছু হবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত সে ধরনের চিন্তা নেই। ফ্রন্টলাইনারদের আগে দেব। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, সাংবাদিকদের দেব। আমাদের কাছে পুরো দেশের মানুষই ভিভিআইপি। যাদের প্রয়োজন আগে তাদের আগে দেওয়া হবে।’ সভাসূত্রে জানা যায়, রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় সরাসরি জড়িত এমন স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথম ধাপে টিকা দেওয়া হবে। ২০ লাখ ডোজ টিকা দুই ডোজ করে দুই ধাপে সম্মুখসারির কর্মীদের দেওয়া হবে। রাজধানীর বাইরে খুব অল্পসংখ্যক টিকা পাঠানো হবে। এরপর বাণিজ্যিক চালানের ৫০ লাখ ডোজ টিকা এলে তা পূর্ববর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কভিশিল্ড নামে বাজারজাত করছে সেরাম ইনস্টিটিউট। গত শনিবার এ টিকা ভারতের মানুষকে দেওয়া শুরু হয়েছে। উপহারের বাইরে সেরামের কাছ থেকে টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মা ও সেরামের মধ্যে চুক্তিও আছে। সে অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ৫০ লাখ টিকা আসার কথা। ২০ লাখ ডোজ টিকা সংরক্ষণের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘এসব টিকা স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিএমএসডি, ইপিআই ও তেজগাঁও হেলথ কমপ্লেক্সের কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের কিছু টিকা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এক সপ্তাহ পর সব জেলায় শুরু করা হবে।’ উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে দেওয়া এ ভ্যাকসিনে সব ধরনের কর মওকুফ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তৌহিদ ইমাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি এনবিআর চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারকে উপহারস্বরূপ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ করোনা টিকা সরবরাহ করবে। টিকার চালানটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় পৌঁছবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে ও জনস্বার্থ বিবেচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকারের পাঠানো ২০ লাখ ডোজ টিকার চালানের ওপর সব ধরনের কর, শুল্ক ও অন্যান্য শুল্ক মওকুফ করে দ্রুত ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর