শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৭

উইন্ডিজ হোয়াইটওয়াশ

শেষ ম্যাচেও অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ

মেজবাহ্-উল-হক

উইন্ডিজ হোয়াইটওয়াশ
সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের জুটি গড়ে দেয় বড় স্কোরের পথ

এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রতিপক্ষ হিসেবে কেমন?

সংশয় ভরা এমন প্রশ্ন ক্রিকেটভক্ত মাত্রই ছিল! বাংলাদেশ প্রত্যাশিত ৩-০-তে জিতে ওয়ানডে সিরিজে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার পর উত্তর কী পেয়েছেন ক্রিকেটামোদীরা! ৬ উইকেট, ৭ উইকেটের পর শেষ ম্যাচে ১২০ রানের বিশাল জয় টাইগারদের। ‘তরুণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ দল না হলে অনায়াসে বলা যেত বাংলাদেশ দল কী সুপার! কী অসাধারণ খেলল। কিন্তু প্রতিপক্ষ ‘অনভিজ্ঞ’ উইন্ডিজ বলেই কি যোগ্য প্রশংসাও পাবে না বাংলাদেশ? তবে প্রতিপক্ষের চ্যাপ্টার ‘উহ্য’ রাখলে এই টুর্নামেন্টে ক্যারিশম্যাটিক ক্রিকেটই খেলেছে স্বাগতিকরা।

শেষ ম্যাচে গতকাল প্রথমে ব্যাট করে ২৯৭ রান করে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭৭ রানেই গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস। প্রথম দুই ম্যাচের মতো গতকালও টাইগারদের ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই ‘নিখুঁত’ পারফরম্যান্স। ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে পুরো সিরিজে টাইগারদের কীর্তি তুলনা করা যায় সেই ‘চিত্রনাট্যে’র সঙ্গে, যে চিত্রনাট্যের ভাষাগত ভুল তো দূরের কথা দাঁড়ি-কমাও পরিবর্তন করতে হয় না! প্রতিপক্ষ শক্তিশালী না হলেও টাইগাররা নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছেন। সে কারণেই সবচেয়ে সহজে প্রতিপক্ষকে ১৪তম ‘বাংলাওয়াশ’ করার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। সাকিব আল হাসান নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দীর্ঘ ৪৮৭ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নেমেই বাজিমাত করে দিলেন। তিন ম্যাচে ‘অলরাউন্ড’ পারফর্ম করে সিরিজে সেরা ক্রিকেটার হয়ে গেলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তাকে দেখে মনেই হয়নি এক বছরেরও বেশি সময় তিনি খেলার বাইরে ছিলেন। মুস্তাফিজুর রহমান- যেন মনে করিয়ে দিলেন তার শুরুর দিকের ভয়ংকর বোলিংয়ের কথা। এই টুর্নামেন্টে তার হাত থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক সেই ‘ডেঞ্জার ডেলিভারি’। মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথম ম্যাচে খানিকটা ধাক্কা খেলেও সাকিবের পরামর্শ নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই বদলে গেলেন। পরের দুই ম্যাচেই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে ধাঁ-ধাঁ হয়ে রইলেন। তার বল ঠিকমতো বুুঝতেই পারছিলেন না ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দুই ম্যাচে ঠিকঠাক ব্যাটিং করার সুযোগই পাননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশের বোলাররা ক্যারিবীয়দের এত দ্রুত আটকে দিয়েছেন যেন লড়াই জমেই ওঠেনি। সিরিজের শেষ ম্যাচে গতকাল চট্টগ্রামে প্রথম ব্যাট করে ২৯৭ রান করে বাংলাদেশ। চার সিনিয়র সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহর হাফ সেঞ্চুরি। একাদশের সবাই কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছেন। টাইগারদের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হয়েছে পারফেক্ট এক দলের প্রতিচ্ছবি! প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার মাধ্যমে দারুণ শুরু হলো অধিনায়ক তামিমের যুগের। তবে এই সিরিজে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল ক্রিকেটারদের মধ্যে মধুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কাকে রেখে কাকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট একাদশ গড়বে সেটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অবশ্য দলে এমন চ্যালেঞ্জ সবারই কাম্য!


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর