শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৬

জয়নুল হক সিকদারের জানাজায় মানুষের ঢল

আজ শরীয়তপুরে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জয়নুল হক সিকদারের জানাজায় মানুষের ঢল
সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের কর্ণধার ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, সমাজসেবক জয়নুল হক সিকদারের প্রথম জানাজা গতকাল বাদ জোহর তাঁর নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান রাজধানীর রায়েরবাজারে জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত হয় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের কর্ণধার ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, সমাজসেবক  জয়নুল হক সিকদারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বাদ জোহর তাঁর নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান রায়ের বাজারে জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত জানাজায় জনতার ঢল নেমেছিল। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। এর আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আজ তাঁর মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে জানাজার নামাজ শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধা, সফল ব্যবসায়ী ও সমাজসেবককে তাঁর মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে। গতকাল বাদ জোহর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক জয়নুল হক সিকদারকে শেষ বিদায় জানাতে সমবেত হতে থাকেন। এ সময় অনেকেই কালো পাঞ্জাবি ও কালো ব্যাজ পরিহিত ছিলেন। ঘড়ির কাঁটা ১টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ কানায় কানায় ভরে ওঠে। বেলা দেড়টায় মৃতদেহ জানাজা স্থলে নিয়ে আসা হয়। শেষবারের জন্য এই সমাজসেবককে দেখতে ভিড় জমান সর্বস্তরের মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর মরহুমের নাতনি মনিকা, নাতি জোনাস, জন, মেয়ে পারভীন হক সিকদার এমপি স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। মনিকা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মরহুম জয়নুল হক সিকদার কখনো নিজের জন্য চিন্তা করেননি। তিনি সব সময় অন্যের মঙ্গল কীভাবে করা যায় সেই চিন্তা করতেন। আজকে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে উনি কতটা ভালো মানুষ ছিলেন। আমার ভাইয়ার জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ তাঁকে বেহেস্ত নসিব করেন।’ মেয়ে পারভীন হক সিকদার বলেন, ‘আজকে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে আমার প্রিয় মানুষটি নেই। তাঁর নিথর দেহ পড়ে আছে। সবাই আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন। তিনি যদি কারও মনে অজান্তে দুঃখ দিয়ে থাকেন, তাহলে ক্ষমা করবেন। আমার আব্বা যেন জান্নাত পান সেই দোয়া চাই’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পারভীন হক সিকদার। এ সময় উপস্থিত অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিকেল কলেজ মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আবদুল খালেক। এ সময় জানজায় অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সাদেক খান এমপি, আসলামুল হক আসলাম এমপি, আলী আজম মুকুল এমপি, নাঈম রাজ্জাক এমপি, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপিসহ ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, চিকিৎসক, ব্যাংকারসহ সর্বস্তরের মানুষ। জানাজা শেষে পরিবারবর্গ এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় মরহুমের স্ত্রী মনোয়ারা হক সিকদার, ছেলে রন হক সিকদার, রিক হক সিকদার, নিক হক সিকদার, মেয়ে নাসিমা হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার এমপি, নিসা হক সিকদারসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর মৃতদেহ জেড এইচ সিকদার উইমেন মেডিকেল কলেজের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ দুপুরে হেলিকপ্টার যোগে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের কর্ণধার ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক জয়নুল হক সিকদার। উল্লেখ, খ্যাতিমান ব্যবসায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন জয়নুল হক সিকদার গত বুধবার দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। সর্র্বজনশ্রদ্ধেয় সফল এই ব্যবসায়ী দেশের অর্থনীতির বিকাশ ও কর্মসংস্থানে রেখেছেন অসামান্য অবদান। একে একে ব্যাংক, গার্মেন্ট, রিয়েল স্টেট, এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সেক্টরে কোম্পানি প্রতিষ্ঠান করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইউএই, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও আমেরিকায় সিকদার গ্রুপের ব্যবসা রয়েছে। রিয়েল এস্টেট, চিকিৎসা ও শিক্ষা, ব্যাংকিং, এভিয়েশন, আবাসিক হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও গার্মেন্ট সেক্টরে তাঁর ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সিকদার গ্রুপের কই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এখন বিশ্বখ্যাত।


আপনার মন্তব্য