শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৩

২৫০০ টাকার নগদ সহায়তা পেলেন ১৭ লাখ ২৪ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের আগে ১৭ লাখ ২৪ হাজার দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মাঝে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। করোনা মহামারী থেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষার জন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সেই প্যাকেজের আওতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা (ওএমএস) হিসেবে এই প্রণোদনা পৌঁছানো হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ লাখ ৩৭ হাজার দিনমজুর, ২ লাখ ৩৫ হাজার পরিবহন শ্রমিক এবং প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ১ হাজার ৬০৩ জন গ্যারেজ শ্রমিকের মাঝে ঈদের দুই দিন আগে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। ২৩ জুলাই শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের জন্য এই অর্থ কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে মনে করে সরকার। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে সাধারণ ছুটির পর সরকার ৩৫ লাখ মানুষকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখের তালিকা করা হলেও পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে কমিয়ে ৩৫ লাখে নামিয়ে আনা হয়।

এ কার্যক্রমের উপকারভোগীদের মধ্যে রিকশাচালক, দিনমজুর নির্মাণ শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক রয়েছে। ২ হাজার ৫০০ টাকার নগদ সহায়তার দ্বিতীয় ধাপ এটি। এবার সেই তালিকা থেকে ১৭ লাখ ব্যক্তিকে  বেছে নিয়েছে সরকার। একই প্রণোদনা সুবিধার আওতায় নগদ সহায়তা ছাড়াও সরকার শহরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি দিয়ে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি (ওএমএস) শুরু করেছে ২৫ জুলাই। যা চলবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত। সারা দেশে কম করে হলেও ৮১৩টি কেন্দ্রে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি হচ্ছে এবং সরকার ১৫০ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা প্যাকেজ বরাদ্দ করেছে। জানা গেছে, সারা দেশে ওএমএস-এর মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে ২০ হাজার টন চাল এবং ১৮ টাকা দরে ১৪ হাজার টন ময়দা বিক্রি করবে। সরকার প্রতি কেজি চালে ১৭ টাকা এবং প্রতি কেজি ময়দায় ১০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এবার দেশের প্রতিটি পৌরসভাকে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩ এর অনুরোধের ভিত্তিতে সরকার প্রতিটি জেলায় খাদ্য সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকদের ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। তারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সংখ্যার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নগদ ও খাদ্য সহায়তা ছাড়াও ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যক্রম চালু করার জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে। ৪ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে এসব ঋণ বিতরণ করবে। এ প্রসঙ্গে অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের বরাদ্দের জন্য সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে। এ ছাড়াও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি ক্রয় খরচ অর্ধেক কমিয়ে রয়েছে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা।

 

এই বিভাগের আরও খবর