শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৬:০৭

হতাশার মধ্যে ইরানে সংসদ নির্বাচন

অনলাইন ডেস্ক

হতাশার মধ্যে ইরানে সংসদ নির্বাচন

ভোটদানকে ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরলেও ভোটগ্রহণের হার কমার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ইরানে সংসদ নির্বাচন। সে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় সংসদ ও নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা সীমিত থাকলেও অপেক্ষাকৃত উদারপন্থী শক্তির জনপ্রিয়তা একমাত্র এই নির্বাচনের মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। 

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতল্লাহ খামেনিই এবং সরাসরি তার অধীনে রাখা শক্তিশালী রিপাবলিকান গার্ড বাহিনী এতকাল জনগণের রায় মেনে নিলেও কট্টর রক্ষণশীল শিবিরের সঙ্গে উদারপন্থী শিবিরের শীতল সংঘাত চলে এসেছে। 

এবার খামেনিই উদারপন্থীদের পুনরুত্থান ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কট্টরপন্থীদের চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, এমন হাজার হাজার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ইরানের এবারের সংসদ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। খামেনিই এবার ভোট দেওয়াকে ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে যে বিরক্ত, এই নির্বাচনে কিছুটা হলেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানে অপেক্ষাকৃত উদারপন্থী শিবিরের অবস্থা এমনিতেই ভালো নয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে দেশে যে অর্থনৈতিক উন্নতির জোয়ার দেখা গিয়েছিল, তার ফলে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও উদারপন্থী শিবিরের সুবিধা হয়েছিল। অন্যদিকে কট্টরপন্থীরা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকে ইরানের অর্থনীতি প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। আমেরিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভারে নানা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পরমাণু কর্মসূচি আবার চালু করায় আন্তর্জাতিক আঙিনায় আবার একঘরে হয়ে পড়ছে সে দেশ। দেশে ব্যাপক দুর্নীতিও মানুষের রোষের কারণ। কম ভোট পড়লে তাতে আখেরে ট্রাম্পের লাভ হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কট্টরপন্থি নেতারা।

এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের কত মানুষ আদৌ ভোট দেবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশের অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় অনেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ। বেকারত্ব হু হু করে বেড়ে চলেছে। 

ইরানের এক তরুণ সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেন, সে দেশের নির্বাচন আসলে অর্থহীন। এমনকি বিদায়ী সংসদের ৯০ জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। প্রেসিডেন্ট রোহানির এক উপদেষ্টা মানুষের উদ্দেশ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের আবেদন জানিয়েছেন।

নির্বাচনের আগেও ওয়াশিংটন তেহরানের উপর চাপ বাড়াতে পাঁচ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের নির্বাচনে কারচুপি বরদাস্ত করবে না বলে জানিয়েছে। ইরানের ‘গার্ডিয়েন কাউন্সিল' এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে গণতন্ত্রের প্রতি আমেরিকার অবজ্ঞা হিসেবে তুলে ধরেছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য