Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৩

এক চীন নীতিতে সমর্থন ট্রাম্পের

এক চীন নীতিতে সমর্থন ট্রাম্পের
ডোনাল্ড ট্রাম্প - শি জিন পিং

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘এক চীন নীতি’কে সম্মান জানাতে রাজি হয়েছেন। ফোনালাপে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে এ কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে দুই নেতার ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত আন্তরিক’ বলে বর্ণনা করেছে। চীন সরকারের এক চীন নীতি অনুযায়ী তাইওয়ানকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা না করে চীনের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিগত বেশ কয়েকটি সরকার এক চীন নীতি অনুসরণ করলেও নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ট্রাম্প। গত বছর ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়লাভের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ফোন করে তাকে শুভেচ্ছা জানান। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চীন। পরে এক সাক্ষাৎকারে ‘যুক্তরাষ্ট্র এক চীন নীতি মানতে বাধ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। যার নিন্দা জানিয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল  বেইজিং। যদিও নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই ট্রাম্প চীনের বাণিজ্য নীতি এবং দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ  থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে দুই নেতা দীর্ঘ সময় ফোনালাপ করেছেন এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এদিকে ইরাকের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি ও ট্রাম্পের মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথম ফোনালাপ হয়। তখনই ট্রাম্পকে ফোন করে এ অনুরোধ জানান হায়দার আল-আবাদি। গতকাল ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দফতর  থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। সম্প্রতি ইরাকসহ সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইরাকিদের যে অধিকার রয়েছে তার গুরুত্ব তুলে ধরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করার ওপর জোর দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্পকে ইরাক সফরে আসারও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানকে ‘নজরদারিতে’ রাখার হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে তেহরানে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। দেশটিতে ইসলামী বিপ্লবের ৩৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে (বিপ্লব হয়েছিল ১৯৭৯ সালে) গতকাল এক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। এ সময় র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, তারা ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত নন এবং হুমকিকে পরোয়া করে না ইরান। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মঙ্গলবার ইরানিদের বিক্ষোভে নামার ডাক দেন। ইরানে প্রতি বছর ইসলামী বিপ্লব বার্ষিকীর র‍্যালিতে সাধারণত ‘আমেরিকা নিপাত যাক ও ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগানটি প্রাধান্য পায়। কিন্তু এ বছরের র‍্যালিতে সবার কণ্ঠেই ছিল আরও কয়েকটি নতুন স্লোগান। এর মধ্যে অন্যতম হলো— ‘ট্রাম্প নিপাত যাক, ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ এবং ‘ভয় করি না হুমকি-ধমকি’। প্রসঙ্গত, ২৯ জানুয়ারি ইরান ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কারণে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানকে ‘নজরদারিতে’ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। বিবিসি, আলজাজিরা।


আপনার মন্তব্য