শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০৩

‘ওবামা আক্রোশে’ ইরান চুক্তি বাতিল!

‘ওবামা আক্রোশে’ ইরান চুক্তি বাতিল!

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি ‘আক্রোশ’ থেকে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ডারোখের ফাঁস হয়ে যাওয়া নথিতে এমন তথ্য জানা গেছে। গত বছর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন পারমাণবিক চুক্তি বহাল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় ওই নথিটি লেখা হয়। স্যার কিম ডারোখে পুরো বিষয়কে ‘কূটনৈতিক ধ্বংসাত্মক কর্মকা ’ বলে বর্ণনা করেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র মেইলের বরাত দিয়ে গতকাল বিবিসি অনলাইন এ খবর প্রকাশ করে। ২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন (পি-ফাইভ) ও জার্মানি (ওয়ান) পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত রেখে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়।

দ্য মেইল জানিয়েছে, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটেনে ফিরে আসার পর স্যার কিম লিখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ব্যক্তিগত কারণে’ পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করতে চাইছেন বলে মনে হচ্ছে। কারণ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা। ব্রিটিশ দূত নথিতে বলেন, চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কী করা হবে তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টাদের ও হোয়াইট হাউসের প্রতিদিনের কৌশল নির্ধারণ করা ছিল না। সপ্তাহখানেক আগে ব্রিটিশ দূত স্যার কিম ডারোখের প্রথম একটি নথি ফাঁস হয়। তাতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘অদ্ভুত এবং নিষ্ক্রিয়’ আখ্যা দিয়েছেন। এর জেরে স্যার কিমকে ‘ভেরি স্টুপিড গাই’ অভিহিত করেন ট্রাম্প। নথি ফাঁসের জের ধরে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব বলে মন্তব্য করে গত বুধবার পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ দূত স্যার কি ড্যারোচ। ট্রাম্পের প্রতিহিংসার এ তথ্য এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড গণমাধ্যমকে গোপন কূটনৈতিক স্মারক প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক করেছে। তারা সাংবাদিকদের সতর্ক করেছে, সাবেক রাষ্ট্রদূতের আর কোনো গোপন নথি প্রকাশ করলে তা সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে।

এদিকে মেইল কর্তৃপক্ষ তাদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছে, এটায় জনস্বার্থ জড়িত। তাই ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিলে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের থামানোর চেষ্টার ব্যাপারে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় এটাকে কোনো ‘খবর নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি সংবেদনশীল গোপন নথি প্রকাশকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ইরানকে প্রতিহত করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতবিরোধ ছিল, এটা কোনো ‘খবর নয়’।

 


আপনার মন্তব্য