শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৯

ক্ষমতা ধরে রাখার লোভেই হেগ যাচ্ছেন সু চি

ক্ষমতা ধরে রাখার লোভেই হেগ যাচ্ছেন সু চি

তাকে বলা হতো গণতন্ত্রের কন্যা। অথচ তার ইন্ধনেই মিয়ানমানে চলছে মানবাধিকার হরণের সবচেয়ে বড় আয়োজন। বলা হচ্ছে অং সান সু চির কথা। ক্ষমতার লোভে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনকে থোড়াই কেয়ার করছেন। রোহিঙ্গা নির্যাতনের কারণে সু চি ও তার দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালত ও সংস্থায় হচ্ছে মামলার পর মামলা। এসব কারণে কয়েক বছর ধরে দেশের বাইরেও যান না এই মিয়ানমারের নেত্রী।

সবশেষ ২০১৬ সালে পশ্চিম ইউরোপ সফরে গিয়েছিলেন সু চি। অর্ধ-শতাব্দীর সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি সেখানে গিয়েছিলেন গণতন্ত্রের পতাকা হাতে। ৩ বছরের ব্যবধানে এবার তিনি ইউরোপে যাচ্ছেন গণহত্যার অভিযোগ মাথায় নিয়ে। যে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তিনি দুনিয়াব্যাপী নন্দিত হয়েছিলেন, এবার তার ইউরোপ সফরের উদ্দেশ্য তাদের গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়া। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল’ করতেই নেদারল্যান্ডসের  হেগে যাচ্ছেন তিনি। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এ রাজনীতিবিদের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণœ করবে বলে মনে করা হলেও  দেশে তার সমর্থন আরও সুসংহত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে সু চির পক্ষে একের পর এক সমাবেশ হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নালিশ গেছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জোট ওআইসির সমর্থনে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া নভেম্বরে জাতিসংঘের আদালত আইসিজেতে মামলা করেছে। ১০ ডিসেম্বরে আইসিজের ওই মামলার প্রথম শুনানি শুরু হতে চলেছে; ‘মিয়ানমারের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়’ ওই মামলায় লড়তে কয়েকদিনের মধ্যেই সু চি নেদারল্যান্ডসের হেগের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে তার কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি পার্টির মুখপাত্র মিও নায়ান্ট বলেছেন, ‘মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আসলে কী ঘটেছিল জাতিসংঘের আদালতে তার ব্যাখ্যা দেবেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা।’

‘মিয়ানমারের অধিকাংশ মানুষ রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগকে পক্ষপাতমূলক ও রাজনৈতিকভাবে   প্রভাবিত বলে মনে করে। এর বিরুদ্ধে সু চি জাতীয়    স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা নেওয়া উচিত বলেই মনে করেন,’ বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপে মিয়ানমারের পরামর্শক রিচার্ড হর্সে।


আপনার মন্তব্য