শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৬

রাজভবনে মোদি-মমতা একান্ত বৈঠক

নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে কলকাতা ও মুর্শিদাবাদে বিক্ষোভ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে কলকাতা ও মুর্শিদাবাদে বিক্ষোভ

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (ক্যা) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে দেশজুড়ে উত্তাপের মধ্যে বিশেষ বিমানে গতকাল বিকালে দুই দিনের সফরে কলকাতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার, রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, মুকুল রায়, অর্জুন সিং। এ সময় উপস্থিত সবাই মোদির হাতে একটি করে গোলাপি রঙের গোলাপ তুলে দেন। পরে রাজভবনে মোদিকে স্বাগত জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এরপর রাজভবনে মোদি-মমতার একান্ত বৈঠক শুরু হয়, যা চলে ২০ মিনিটের মতো। মোদি-মমতা বৈঠকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ হয়েছে গতকাল। এ ছাড়া জমিয়েত উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকেও মুর্শিদাবাদে কালাদিবস ও অবস্থান বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের গণশিক্ষা ও মাদ্রাসা মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। বিক্ষোভ থেকে ‘গো ব্যাক মোদি’ স্লোগান দেওয়া হয়। এদিন বিকালে মোদিকে বহনকারী বিমান যখন কলকাতা বিমানবন্দরে নামে তখন বিমানবন্দরের এক নম্বর, আড়াই নম্বর গেটে বাম-কংগ্রেস সমর্থিত কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। ভিআইপি রোডসংলগ্ন এলাকায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। এ সময় সেখানে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ায়, পরে সাময়িকভাবে ভিআইপি রোডে যান চলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার মোদির হেলিকপ্টার যখন রেসকোর্সে নামে তখন দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ওপর থেকে বিক্ষোভকারীরা কালো পতাকা নাড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রাজভবনের গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল। রাজভবনের ভিতরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল এসপিজি, বাইরে ছিল কলকাতা পুলিশ। মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরই কলকাতার রানী রাসমণি এভিনিউতে অনুষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের একটি বিক্ষোভ রালিতে অংশ নেন মমতা। সেখান থেকে ফের একবার ক্যা ও এনআরসি ইস্যুতে সরব হন তিনি। মমতা বলেন, শুক্রবারই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জেদ করে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেশজুড়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু ওটা কাগজে-কলমেই থাকবে। কাজে লাগু হবে না যতক্ষণ দেশের মানুষ না চাইবে। আর আমরা তো এ রাজ্যে লাগু করবই না, এটা আমাদের বিশ্বাস। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে মমতা বলেন, আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন যে আমাদের এই ছাত্ররা ওই গেজেট বিজ্ঞপ্তি ছিঁড়ে দিয়েছে। আপনারা এটা তৈরি করেছেন আর আমরা এটা ছেঁটে দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মের ভিত্তিতে, জাতপাতের ভিত্তিতে, সংকীর্ণতার ভিত্তিতে কখনোই এ জিনিস হয় না। এটা অসাংবিধানিক, অমানবিক ও বেআইনি বলে আমরা মনে করি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে কয়েকজন যা ইচ্ছা করবে, গণতান্ত্রিক দেশে তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরাও মানছি না। মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা জানান, প্রধানমন্ত্রী আমাদের রাজ্যে এসেছেন, তাঁকে স্বাগত জানানো সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী এলে আমি তাঁদের সঙ্গে আগেও দেখা করেছি। বিমানবন্দরে মিনিস্টার ইন ওয়েটিং হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন ফিরহাদ হাকিম। আর রাজভবনে আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করলাম। বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রের কাছে আমাদের রাজ্যের ২৮ হাজার কোটি রুপি পাওনা আছে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আমার প্রায় ৭ হাজার কোটি রুপি পাওনা আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার রুপি। আমাদের রাজ্যের দাবি, আমাদের প্রাপ্য রুপি যেন মিটিয়ে দেওয়া হয়। তা-ই আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।


আপনার মন্তব্য