শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২০ ০০:২৭

নয়া সংক্রমণে দুশ্চিন্তায় চিকিৎসকরা

করোনা ভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তন

করোনাভাইরাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে বিশ্বে চিহ্নিত হয়েছে চীনের উহান। চীনের এই প্রদেশকে তছনছ করে গোটা বিশ্বে তা-ব চালাচ্ছে এই ভাইরাস। এবার চীনের উত্তর-পূর্বপ্রান্তে নতুন করে দেখা দিচ্ছে উপসর্গ- যা চিকিৎসকদের কপালে ভাজ ফেলেছে। নতুন আক্রান্তদের দেহে ভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন চীনা চিকিৎসকরা। অজানা উপায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে এই মরণ ভাইরাসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য- যা ভাবতে বাধ্য করছে বিশেষজ্ঞদের। উহানের উত্তর-পূর্বপ্রান্তে আক্রান্তদের শরীরে ক্রমেই চারিত্রিক ও গঠনগত পরিবর্তন করছে ভাইরাস। ফলে চিকিৎসকদের কাছে এই ভাইরাস এক ধাঁধায় রূপ নিচ্ছে- যা ধীরে ধীরে জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার পূর্বে তাই তাদের আরও বেশি করে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। দুদিন আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এক চিকিৎসক কিউইউ হাইবো জানান, ‘চীনের উত্তরে জিলিন এবং হিলংজিয়াংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাইরাসটি বহন করছেন। তাদের শরীর থেকে ভাইরাসটি নির্মূল করতে সময়ও লাগছে অনেক। উহানের আক্রান্তদের তুলনায় এই অঞ্চলের সংক্রমিতদের মধ্যে রোগের লক্ষ্মণ ধরা পড়েছে অনেক পরে। ফলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা বোঝার উপায় নেই। এভাবে কোনো উপসর্গ ছাড়াই উত্তরাঞ্চলের মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।” গত দুই সপ্তাহে চীনের উত্তরাঞ্চলের শুলান, জিলিন, শ্যেনগ্যাঙ্গ মিলিয়ে মোট ৪৬ জনের শরীরে সংক্রমণের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে তাদের শরীরে কোনো উপসর্গ নেই বলেই জানা যায়। এর জেরে উত্তর-পূর্ব প্রান্তে নতুন করে লকডাউন জারি করার উপক্রম শুরু হয়েছে।   এক কোটিরও বেশি মানুষকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে ভাইরাসের গঠন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হলেও উত্তরাঞ্চলের সংক্রমিতদের শরীরে পাওয়া ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য একেবারেই আলাদা। তাই সংক্রমিতদের চিকিৎসার পূর্বে তাদের আরও বেশি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। চীনের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে যে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে তা হুবেই প্রদেশের তুলনায় ছোট কিন্তু চারিত্রিক গঠনের পরিবর্তন চিকিৎসকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসের চারিত্রিক পরিবর্তন নিয়ে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেইজি ফুকুডা বলেন, “তত্ত্ব অনুসারে, ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনই তার চারিত্রিক ও গঠনগত পরিবর্তনের মূল কারণ হতে পারে।” এখন এই নয়া সংক্রমণ রোধে চীন নয়া উপায় খুঁজে বের করতে পারে কি-না সেটাই দেখার বিষয়।

 


আপনার মন্তব্য