শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:৩০

ভারতজুড়ে ধর্মঘটে পশ্চিমবঙ্গেও প্রভাব কৃষক বিক্ষোভে উত্তপ্ত হরিয়ানা

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতজুড়ে ধর্মঘটে পশ্চিমবঙ্গেও প্রভাব কৃষক বিক্ষোভে উত্তপ্ত হরিয়ানা

একদিকে বামপন্থিদের ডাকা দেশব্যাপী বন্ধ। অন্যদিকে কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ অভিযান। গতকাল সকাল থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় খ-যুদ্ধ শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের। দেশটির সংসদের শেষ অধিবেশনে কৃষি বিল পাস করেছিল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি ধ্বনিভোটে পাস করানো হয়েছিল। কিন্তু কৃষক ও সাধারণ মানুষ এটাকে বিতর্কিত দাবি করে তা বাতিলের দাবি জানায়। ওই বিল পাস হওয়ার পর থেকেই ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক দুই রাজ্য পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজ্য দুটির কৃষকদের একটি বড় অংশ আন্দোলন শুরু করে। শীতে কার্যত কোনো ফসল বোঝাই ট্রাক পাঞ্জাব থেকে বের হতে দিচ্ছে না কৃষকরা। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইন বলবৎ করে কৃষকদের স্বার্থে আঘাত করেছে।

কৃষকদের গতকালের কর্মসূচিতে ভালো সাড়া পড়ে কেরালা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গেও। এদিন এই তিন রাজ্যেই ধর্মঘটের সমর্থনে র‌্যালি-মিছিল বের হয়। কেরালার রাস্তায় সরকারি বাসের দেখা মেলেনি। পশ্চিমবঙ্গে ট্রেনে পাথর ছোড়া, সড়ক ও রেল অবরোধ, প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ, পুলিশের লাঠিপেটাসহ বিক্ষিপ্ত ঘটনাও ঘটে। যা নিয়ে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। এদিন সকালে পশ্চিমবঙ্গজুড়েই ধর্মঘটের সমর্থনে পথে নামে শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। যাদবপুর, বালি হল্ট, মধ্যমগ্রাম, ব্যারাকপুর, শ্যামনগর, ডোমজুড়, সমুদ্রগড়সহ একাধিক জায়গায় রেল অবরোধে শামিল হয়।

কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন চলছিল। তারই মধ্যে কেন্দ্র কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। তার পরেই কৃষকদের প্রায় ৫০০টি গোষ্ঠী একত্রে সিদ্ধান্ত নেয়, বৃহস্পতিবার দিল্লি অভিযান করা হবে। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় যোগ দেন এই আন্দোলনে। গতকাল  সকাল থেকে একের পর এক ট্রাক্টরের মিছিল হরিয়ানা সীমানার দিকে আসতে থাকে। সঙ্গে পদযাত্রা। হরিয়ানা বিজেপি শাসিত রাজ্য। দিল্লি অভিযান করতে হলে পাঞ্জাবের কৃষকদের হরিয়ানার ওপর দিয়েই আসতে হবে। সরকারের নির্দেশে হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাব সীমানায় বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে। কৃষকরা সেই ব্যারিকেডের সামনে পৌঁছলে শুরু হয় খ-যুদ্ধ। অন্যদিকে বাম এবং কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলো এ দিনই দেশজুড়ে বন্ধের ডাক দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিল এবং শ্রমনীতির বিরুদ্ধে এ দিন বন্ধের ডাক দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালায় তার যথেষ্ট প্রভাব দেখা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বুধবারই জানিয়েছিলেন, বন্ধ সমর্থন না করলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবির সঙ্গে তিনি একমত। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্রই রাস্তায় নেমেছে কংগ্রেস এবং বাম বন্ধ সমর্থনকারীরা। এদিকে গতকাল মধ্যপ্রদেশ থেকে বিশিষ্ট অধিকার রক্ষাকর্মী মেধা পাটকর কৃষকদের একটি মিছিল নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে আসছিলেন। তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


আপনার মন্তব্য