শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৬

অ্যাটর্নি জেনারেলও হতাশ করলেন ট্রাম্পকে

অ্যাটর্নি জেনারেলও হতাশ করলেন ট্রাম্পকে
উইলিয়াম বার (বামে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ধারণা করা হয় মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দহরম-মহরম সম্পর্ক। ট্রাম্পের আইনি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা উইলিয়াম বার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কাছেই বড় ধাক্কাটি পেলেন ট্রাম্প। মার্কিন এই অ্যাটর্নি জেনারেল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের লাগাতার অভিযোগ তুলে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কিন্তু কোথাও তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। তার ধারণা ছিল সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার তাকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবেন। কিন্তু ট্রাম্পের ধারণা হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবির স্বপক্ষে তথ্যপ্রমাণের অভাবে একের পর এক আদালত ও রাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ খারিজ করে দিচ্ছে। যেখানে পুনঃগণনা হচ্ছে সেখানেও তার পরাজয়ের ব্যবধান উল্টে বেড়ে যাচ্ছে। ঠিক এ মুহূর্তে খোদ ট্রাম্প নিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার জানালেন, আইন মন্ত্রণালয় গত মাসের নির্বাচনে কোনো রকম কারচুপির প্রমাণ পায়নি। সংবাদ সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার বলেন, এখন পর্যন্ত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এমন কোনো বড় আকারের কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যার ফলে নির্বাচনের ফলাফলে পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি দাবি করা হয়েছে, ভোটিং মেশিনগুলো হ্যাক করে এমনভাবে প্রোগ্রামিং করা হয়েছে যে, সেটি ভোটের ফলাফল পাল্টে জো বাইডেনের পক্ষে নিয়ে গেছে। সেই দাবি প্রসঙ্গে বার বলেছেন, বিচার বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই দাবি তদন্ত করে ‘এখন পর্যন্ত এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।’

নির্বাচনে জো বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি। ভোট পাওয়ার দিক থেকে ট্রাম্পের চেয়ে ৬২ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন বাইডেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রচারাভিযান অভিযোগ করে আসছে, আইন মন্ত্রণালয় নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ যথেষ্ট গভীরভাবে তদন্ত করছে না।

এদিকে উইলিয়াম বারের দফতর ট্রাম্পের অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ না পেলেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করছে। মোটা অঙ্কের রাজনৈতিক চাঁদার বদলে কিছু দাগি অপরাধী প্রেসিডেন্টের ক্ষমা কিনতে পারছে বলে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প গত সপ্তাহে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল পার্ডন’ বা প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ক্ষমা করেছেন। ভবিষ্যতে আইনি অভিযোগ এড়াতে তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্যও ‘আগাম ক্ষমা’ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এত কিছুর পর নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে বাস্তবে কোনো ফল পাওয়া যাবে না, এমনটা ধরে নিয়ে ট্রাম্প নানা বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের পরাজয় কার্যত মেনে নিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বিগত চার বছরের ‘অসাধারণ’ অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা আরও চার বছরের জন্য চেষ্টা করছি। সেটা সম্ভব না হলে চার বছর পর আবার দেখা হবে।’ অর্থাৎ আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলে ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবার প্রার্থী হিসেবে আসরে নামার ইঙ্গিত দিলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে জিতলেও ওদের সেটা পছন্দ হয়নি। আমি চিরকাল এই নির্বাচনকে ভুয়া বলে যাব।’ বিবিসি, ডয়চে ভেলে


আপনার মন্তব্য