শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০২১ ২৩:২৯

যেভাবে ফোন হ্যাক করে পেগাসাস স্পাইওয়্যার

যেভাবে ফোন হ্যাক করে পেগাসাস স্পাইওয়্যার
ইসরায়েলের এই ভবনেই তৈরি করা হয় পেগাসাস স্পাইওয়্যার - এএফপি
Google News

যুগে যুগে প্রভাবশালীদের ফোনে আড়ি পাতা নতুন কিছু নয়। মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিকদের ফোনে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা হরহামেসাই ফোনে আড়ি পাতে। এর মধ্যে ইসরায়েলি একটি স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মার্টফোনে আড়ি পাতার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানসহ ১৭টি সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে নজর কেড়েছে ভারতে মন্ত্রী-সাংবাদিকসহ তিন শতাধিক ব্যক্তির ফোনে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি রবিবার গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের তৈরি করা সফটওয়্যার ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করে এই আড়ি পাতার ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, এমনকি কোনো দেশে ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের ওপরও আড়ি পাতা হয়েছে। মূলত, কর্তৃত্ববাদী দেশগুলোর সরকার আড়ি পাতার কাজে এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করেছে।

প্রশ্ন উঠছে কীভাবে কাজ করে এটি? সাধারণত কারা আক্রান্ত হয়? সাধারণ মানুষই বা কতটা সুরক্ষিত? এটি ইসরায়েলি সংস্থা এনএসওর তৈরি সফটওয়্যার, যা মোবাইলে আড়ি পাতার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। ফোনে কী কথাবার্তা হচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপে কী আদান-প্রদান হচ্ছে সবই জানা যায়। ফোনে কী তথ্য, নথি, ছবি রয়েছে সেটাও দেখে ফেলা যায় এর মাধ্যমে। অথচ যার মোবাইল হ্যাক করা হয়েছে, তিনি জানতেই পারেন না। প্রথমে ফোনে একটি ওয়েবসাইটের লিংক পাঠানো হয়। তাতে ক্লিক করলেই মোবাইলে পেগাসাস ইনস্টল হয়ে যায়। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস কল বা ভিডিও কল করেও পেগাসাস ঢোকানো যায়। ২০১৯ সাল থেকে ১৬টি সংবাদমাধ্যম মিলে ‘পেগাসাস প্রজেক্ট’ নামে একটি তদন্ত করেছিল। রবিবার সেই রিপোর্টের কিছু অংশ সামনে এসেছে। এদিন মূলত ভারতে তিন শতাধিক ফোন হ্যাকের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৯-এর অক্টোবরে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, চারটি মহাদেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের মোবাইল পেগাসাসের মাধ্যমে হ্যাক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতীয় কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দেশটির একদল রাজনীতিক, সমাজকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিক। ওই সময় হোয়াটসঅ্যাপ দাবি করে, ২০১৯ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তারা ভারত সরকারকে জানিয়েছিল, ভারতে ২০ জনের বেশি মানুষের মোবাইল হ্যাক হয়েছে।

 তবে ইসরায়েলি সংস্থা এনএসও’র দাবি, নিরাপত্তার জন্য নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি তৈরি করাই তাদের কাজ। তবে তারা শুধু বিভিন্ন দেশের সরকার, সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এই পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিক্রি করে থাকে।

আর মোদি সরকারের দাবি, ভারতের সরকারি এজেন্সিগুলোর তরফে ‘কোনো অনুমোদনহীন নজরদারি’ চালানো হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটিই বরং ভিত্তিহীন। দ্য ওয়ার, এনডিটিভি।