শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:২৫

এলেন, দেখলেন, ব্যাট-বলে মন জয় করলেন মিরাজ!

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

এলেন, দেখলেন, ব্যাট-বলে মন জয় করলেন মিরাজ!

ক্রিকেটের বাইশ গজে অনেক আগেই বহু মানুষের হৃদয় জয় করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু দেশের সীমানা পেরিয়ে কয়েকশত কিলোমিটার দূরে পশ্চিমবঙ্গের কোন একটি শহরেও যে এত জনপ্রিয়তা তা বোধহয় চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। মিরাজ হয়তো নিজেও ভাবেননি যে তাকে দেখতে মানুষ এত উদ্বেল হয়ে উঠতে পারে। 

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের (হেম শীলা মডেল স্কুল) আমন্ত্রণে আসেন মিরাজ। কিন্তু তার আসার খবরে অনেক আগে থেকেই স্কুলের ব্যালকনি, জানালায় বসে শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করতে থাকে কখনও তাদের প্রিয় ক্রিকেটার পা রাখবেন তাদের স্কুলে। দুপুর ১টার দিকে স্কুল গেটে পা রাখতেই শঙ্খ বাজিয়ে তাকে বরণ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের মূল ফটক থেকে ভবনের দুই ধারে স্কুলের পোশাকে মিরাজকে স্যালুট দিয়ে স্বাগত জানান। পরে স্কুল বিল্ডিং-এ প্রবেশের পর তাকে ধান-দুর্বা প্রদীপ জ্বালিয়ে বরণ করে স্কুলের ছাত্রীরা। কেউ তার কপালে পরিয়ে দেয় চন্দনের টিপ, কেউ আবার লাল গোলাপের তোড়া উপহার দেন মিরাজকে। স্কুল বিল্ডিংটি ঘুরে দেখেন তিনি। পরে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকাদের সাথে গ্রুপ ফটোও তোলেন তিনি। এরপর স্কুলের মাঠে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানও হয় সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল স্কুলের সব পড়ুয়ারা। এ সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয় মিরাজকে। স্কুলের প্রতিটি জানালা, দরজা, ব্যালকনিতে শিক্ষার্থীরা হাত নেড়ে মিরাজকে অভিনন্দন জানান। মিরাজও তাদের হাত উঁচু করে তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। 

বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে সামনে দেখতে পেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারি ও কর্মকর্তারাও। কেউ কেউ আবার হাতে সাদা কাগজ ও পেন নিয়ে মিরাজের অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। যদিও সকলেরই যে সেই সাধ পূর্ণ হয়েছে তা নয়। তবে মিরাজকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েই সকলে খুশি। 

ক্রিকেটার বলে কথা, ব্যাট-বল হাতে নিয়ে ময়দানে নামবেন না তা কি হয়? স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাও করলেন মিরাজ। কখনও স্কুলের শিক্ষার্থীরাই তাকে বল করলেন, মিরাজ ব্যাট চালালেন। আবার উল্টোটাও হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের ভালবাসায় আপ্লুত মিরাজ জানান যে, ‘মানুষের যে এত ভালবাসা, স্নেহ তা আমায় ছুঁয়ে গেছে। দুর্গাপুরে আসা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সঞ্জয় নামে আমার কলকাতার এই ভাই আমায় বলে যে দুর্গাপুরের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা তোমাকে দেখতে চাইছে। আমিও দেখা করার জন্য রাজি হয়ে যাই। প্রথমে বুঝতে পারিনি, কিন্তু এখানে পা দিয়েই বুঝলাম যে ওরা খুব এক্সাইটেড। তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখে বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আমি সত্যিই এতে গর্ব বোধ করেছি।

ইডেনে পিঙ্ক টেস্ট নিয়ে এই বাংলাদেশি ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা একটা বড় অভিজ্ঞতা। দুই দলের কাছেও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ছিল। গোলাপি বলে এটাই আমাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। কিন্তু আমরা আমাদের ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ 

একটা সময় ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, ভারতের মতো দলকে হারালেও সাম্প্রতিক কালে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে মিরাজ জানান, ‘ক্রিকেট খেলায় একটা খারাপ সময় যায়। শেষ চার-পাঁচ বছর ভাল ক্রিকেট খেলেছি। হয়তো দুই একটা সিরিজ আমাদের খারাপ যাচ্ছে। তবে আমাদের বিশ্বাস আল্লাহর রহমতে আমরাও কাম ব্যাক করতে পারবো।’ 

ভারত সফরে প্রথম টি-২০ ম্যাচ জিতলেও পরের ম্যাচগুলিতে বাংলাদেশ দলের বিপর্যয় নিয়ে মেহেদি হাসান জানান, ‘আসলে ভারত এখন বিশ্বের এক নম্বর দল। ওরা অনেক ভাল ক্রিকেট খেলেছে। আমাদেরও অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের কিছু কিছু জায়গায় কমতি ছিল, সেটা পূরণ করার চেষ্টা করবো।’  

বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে বিকালের দিকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মিরাজ। তবে যাওয়ার আগে কথা দিয়ে যান ২০২০ সালে ফের তিনি এই স্কুলে আসবেন এবং বাচ্চাদের সাথে অফুরন্ত সময় কাটাবেন। 

স্কুলের কর্মকর্তা অনিন্দিতা হোম চৌধুরী জানান, ‘আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্রিকেটারকে কাছে পেয়ে আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা খুব খুশি। মিরাজও অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। তিনি আমাদের ক্যাম্পাস, অডিটোরিয়াম ঘুরে দেখেন, শিক্ষার্থীদের সাথেও কিছুক্ষণ কথা বলেন।’  


বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব


আপনার মন্তব্য