শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৪

বিদায়ের আগে ইভিএম নিয়ে তত্পর নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায়ের আগে ইভিএম নিয়ে তত্পর নির্বাচন কমিশন

বিদায়ের আগে হঠাৎ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে তত্পর হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিগত হুদা কমিশনের আমলের যাত্রা শুরু করা ইভিএমের ত্রুটি-বিচ্যুতি সারিয়ে এগিয়ে নিতে না পারলেও নিজেদের তৈরি ইভিএম নিয়ে মাঠে নামতে চাইছে কমিশন। নতুন ইভিএমের জন্য টেকনিক্যাল কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে মজার বিষয়, বাংলাদেশে ইভিএমের যাত্রা যাদের হাতে শুরু, তাদের কাউকেই এ কমিটিতে রাখা হয়নি। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগের ইভিএম বাদ দিয়ে হঠাৎ নতুন ইভিএম তৈরি বেশ সমালোচনার সৃষ্টি করবে। এমনকি এতে রাষ্ট্রের অনেক টাকাও গচ্চা যাবে। ২০১০ সালে স্থানীয় পর্যায়ের ভোটে ইভিএম চালুর পর জাতীয় নির্বাচনে তা ব্যবহারের প্রক্রিয়াও চলছিল। ওই সময় ইসি, বুয়েটের আইআইসিটি এবং বিএমটিএফ এই কাজে সম্পৃক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে যাত্রার পাঁচ বছরের মাথায় কারিগরি ত্রুটিকে কেন্দ্র করে ইসি ও বুয়েট দ্বন্দ্বের মধ্যে ইভিএম অধ্যায়ে ছেদ পড়ে। বিদ্যমান অবস্থায় এ বছরের জুলাইয়ে ইসি নিজেদের আইসিটি শাখার লোকবল দিয়ে ইভিএমের নতুন প্রটোটাইপ নিয়ে আসে। এ নিয়ে একাধিক প্রদর্শনীও করা হয়। এদিকে নিজেদের তৈরি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) কারিগরি দিক ও ব্যবহার পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ১৯ সদস্যের ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইভিএম যাত্রার ছয় বছর পর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে এই প্রথম এ ধরনের একটি কমিটি হলো। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে উপদেষ্টা করে ‘কারিগরি কমিটিতে’ ইসি সচিবালয়, এনআইডি উইং, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইএসটি, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে স্থানীয় পর্যায়ের ভোটে ইভিএম চালুর পর জাতীয় নির্বাচনে তা ব্যবহারের প্রক্রিয়াও চলছিল। শুরু থেকেই ইভিএম তৈরির ব্যাপারে ইসি বুয়েটের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কারিগরি সহযোগিতা নেয়। বুয়েটের সরবরাহ করা ইভিএম চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনে সীমিত আকারে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে যাত্রার পাঁচ বছরের মাথায় কারিগরি ত্রুটিকে কেন্দ্র করে ইসি ও বুয়েট দ্বন্দ্বের মধ্যে ইভিএম অধ্যায়ে ছেদ পড়ে। এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, ‘ইভিএমের ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনার জন্য কারিগরি কমিটির গঠনের উদ্যোগ ভালো। তবে এ পর্যায়ে ইসির অবস্থান কী তা বোঝা যাচ্ছে না। আমরা বুয়েট এবং বিএমটিএফের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে ইভিএমকে এগিয়ে নিয়ে গেলাম। এখন তা আরও অনেক দূর যেত। কিন্তু কেন আগেরটি বন্ধ করে দেওয়া হলো, এখন কেনই বা নতুন ইভিএমের উদ্যোগ নেওয়া হলো, আগের ইভিএমের ভুল কী এবং এখনকার ইভিএমের শুদ্ধ কী তা পর্যালোচনা করতে পারলে ভালো হয়।’ আগের ইভিএমের ত্রুটি-বিচ্যুতি সারিয়ে এগিয়ে নিতে পারাটা ভালো বলে মনে করেন সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার। ২০০৭-২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা ছহুল হোসাইন বলেন, ‘আমরা সাফল্যের সঙ্গে ইভিএম এগিয়ে নিয়েছি। ভবিষ্যতেও আধুনিক এ প্রযুক্তি সবার আস্থা নিয়ে ভালোভাবে এগিয়ে যাক— ইসিকে এ ব্যবস্থাই করতে হবে।’ এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের আইসিটি সিস্টেম শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন ইভিএমের কারিগরি ও ব্যবহারিক দিক, নির্বাচনে ব্যবহারের উপযোগিতা, সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ২৬ অক্টোবর এই ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

তারা জানান, প্রথমবারের মতো এ ধরনের কমিটি হলো। এতে উপদেষ্টা, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব ছাড়াও ১৬ জন সদস্য রয়েছেন। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আজ বুধবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থার একজন প্রতিনিধির মনোনয়ন কমিশনকে অবহিত করা হবে। এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী উপদেষ্টা, ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহ্বায়ক এবং ইসির সিস্টেম ম্যানেজার সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন এ কমিটিতে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইএসটি, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন করে প্রতিনিধি; জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ)। তবে কী কারণে বুয়েটের আইআইসিটি এবং বিএমটিএফের প্রতিনিধি (যারা প্রথম ইভিএম যাত্রায় যুক্ত ছিলেন) এ কমিটিতে নেই তা জানাতে পারেননি ইসির কর্মকর্তারা। ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, টেকনিক্যাল কমিটি এখনো কোনো বৈঠক করেনি। সার্বিক বিষয়ে কমিটির সদস্যসচিব সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত হলেই পর্যালোচনার জন্য বসবেন তারা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর