শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২০

শিক্ষকের ছোড়া কলমের আঘাতে দৃষ্টি হারাল দুই শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

শিক্ষকের ছোড়া কলমের আঘাতে দৃষ্টি হারাল দুই শিক্ষার্থী

বগুড়ার শাজাহানপুরের মালিপাড়ায় শিক্ষকের ছোড়া কলমের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারাল দুই শিশু শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে গ্রামীণ একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলো-উপজেলার মালীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম এবং রামচন্দ্রপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে সোহান। শাহ আলম ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ও সোহান সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ভয়ে বিচারও চাইতে পারছে না। জানা যায়, ক্লাসের পাশাপাশি শাহ আলম ও সোহান ওই বিদ্যালয়ে প্রতিদিন কোচিং করত। শিশু শাহ আলম জানায়, ‘গত ১৪ জানুয়ারি কোচিং করার সময় লিখতে ভুল করায় ম্যাডাম আমার দিকে কলম ছুড়ে মারে। সঙ্গে সঙ্গে চোখ দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। এরপর থেকে আর চোখ দিয়ে দেখতে পারছি না।’ শাহ আলমের মা-বাবা জানান, ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা জাহান ও পরিচালক আবু সাঈদ বাদশা বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে চুপ থাকতে বলেন এবং চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহ আলমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বেশি শুনে পরদিন ডাক্তারকে বলে ছাড়পত্র নেওয়া হয়। টাকা জোগাড়ের নামে এক মাস ঘুরিয়ে এক পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যয় বহনে অস্বীকৃতি জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর নিজেরা বগুড়া চক্ষু ডাক্তারের কাছে গেলে ওই চোখ আর ঠিক হবে না বলে ডাক্তার জানিয়ে দেন। এদিকে শিশু সোহানের মা আনজুয়ারা বেগম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কলমের আঘাতে তার ছেলে সোহানের এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। অনেক দিন চিকিৎসা করেও ভালো হয়নি। ঠিকমতো দেখতে না পারায় তাকে পাশের ভান্ডারপাইকা গ্রামে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলটির পরিচালক আবু সাঈদ বাদশা ও প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা জাহান বলেন, ‘এসব তো পুরনো কথা। নতুন করে বলার কী আছে? দুর্ঘটনা তো ঘটতেই পারে। সব কিছুর দায় তো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।’ শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিক আজিজ বলেন, এ বিষয়ে জানানো হয়নি। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ওই শিক্ষককে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা জরুরি।


আপনার মন্তব্য