শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৯

অবশেষে হচ্ছে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল

আইন সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে, প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বিচারকদেরও, কমবে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ

আরাফাত মুন্না

অবশেষে গঠন হচ্ছে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল। আইন হওয়ার দীর্ঘ ১৬ বছর পর এ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকদের এ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ার দিতে আইন সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন শাখা ও আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে গঠিত সাব-কমিটি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপন হলে ভূমি জরিপ সংক্রান্ত মামলার বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ কমবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর প্রথম ভূমি জরিপ (বিএসআর) শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। এই জরিপ এখনো শেষ হয়নি। যেসব এলাকায় শেষ হয়েছে, সেখানে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি। মাঠ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও অসতর্কতায় ভুলে ভরা ভূমি জরিপের খেসারত গুনতে হচ্ছে জমির মালিকদের। জরিপের পর্চা আর মানচিত্রে ভুল আর ভুল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শত বছর ধরে ভোগদখল করে এলেও মালিকের নামের পরিবর্তে জরিপে দেখানো হয়েছে অন্যের নাম।

এসব সমস্যার সমাধানে ২০০৪ সালে সরকার ১৯৫৩ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করে এর ২ ধারায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান সংযোজন করে। ভূমি জরিপ রেকর্ডে ভুলত্রুটি হলে জমির মালিকরা প্রতিকার পেতে এই ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারেন। এরপর ২০১২ সালে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে সরকার। বর্তমানে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকরা ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের মামলার শুনানি করেন। আইন সংশোধন করে যুগ্ম জেলা জজদের পাশাপাশি সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজদেরও ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের মামলা শুনানির এখতিয়ার দেওয়ার বিধান করা হচ্ছে। এদিকে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করার কথা বলা হয় আইনে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল আর স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি এবং আদেশে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকার পেতে বিচার প্রার্থীদের হাই কোর্টে রিট করতে হতো। এটি ছিল বিচার প্রার্থীদের জন্য বেশ হয়রানিমূলক। ২০১৫ সালে এমন এক রিটের শুনানিকালে হাই কোর্ট দেশে কোনো ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল না থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে ওই বছরের ৩ মার্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাই কোর্ট গত বছর ১২ অক্টোবর দেওয়া রায়ে তিন মাসের মধ্যে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ সংক্রান্ত সাব-কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে আমরা আইনের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। শিগগিরই সংশোধিত খসড়াটি মূল কমিটিতে পাঠিয়ে দেব। তিনি বলেন, আগে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হতেন সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। আমরা সেটা পরিবর্তন করে জেলা জজের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। আগের আইনে একটা মাত্র আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগ ছিল। সংশোধিত আইনে প্রতি জেলায় ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের সুযোগ থাকবে। তিনি আরও বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী জেলা জজ চাইলের অতিরিক্ত জেলা জজকেও আপিল শুনানি গ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবেন। আদালতের সংখ্যা বাড়বে, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হবে। এ ছাড়া এ ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিচারকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত সারা দেশের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালগুলোয় বিচারাধীন মামলা ৩ লাখ ১৪ হাজার ৪০৯টি। এর মধ্যে পাঁচ বছরের ওপরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৮০৭টি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে ১৯৩টি মামলার বিচার। ২০০৪ সালের আইন অনুযায়ী দেশে ৪৩টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এসব ট্রাইব্যুনালে গড়ে ৭ হাজারের ওপরে মামলা ঝুলছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর