শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৬

শুক্রবারের অপেক্ষায় প্রকাশকরা

মোস্তফা মতিহার

শুক্রবারের অপেক্ষায় প্রকাশকরা

গণপরিবহন খুলে দেওয়ার পর প্রকাশকরা ভাবছিলেন মেলা জমে উঠবে। বিক্রিও হবে আশাতীত। গত দুই দিনের তুলনায় লোকসমাগম বেড়েছে ঠিকই কিন্তু প্রকাশকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মেলা জমেনি। প্রকাশকরা বলছেন, গণপরিবহন চালু হলেও বাংলা একাডেমি নির্ধারিত সময়সূচির কারণে মেলা জমছে না। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়টা মেলার অনুকূলে নয়। কোনো মেলাতেই দুপুরবেলায় মানুষ আসে না। সন্ধ্যার যে সময়টায় বইপ্রেমীরা আসা শুরু করেন এবং মেলা জমে ওঠে সে সময়টায় মেলার প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই মেলায় আসতে পারেন না। গতকাল বইমেলার ২১তম দিনেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সব প্রবেশপথ থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে গেছেন বইপ্রেমীরা। বেশির ভাগ প্রকাশক বলছেন, সময়সূচিতে যদি পরিবর্তন না আনা হতো এবং মেলা রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকত তাহলে লেখক-পাঠক-প্রকাশক সবাই লাভবান হতেন। তাদের মতে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টার পরিবর্তে বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা খোলা রাখা গেলে মেলা তার চিরচেনারূপে ফিরে যেত। এদিকে, গতকালও মেলাপ্রাঙ্গণ ছিল বইপ্রেমীশূন্য। তবে শুক্রবার ছুটির দিন থেকে মেলা জমে উঠবে, বইপ্রেমীদের পদচারণে মুখরিত হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ। আপাতত শুক্রবারের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন প্রকাশকরা। বড় ধরনের ব্যবসায়িক লোকসানের আশঙ্কায় মঙ্গলবার নিজের স্টল বন্ধ করে দেওয়া প্রকাশনা সংস্থা ইন্তামিনের কর্ণধার এ এস এম ইউনুছের কথার সুরেও বোঝা গেছে প্রকাশকরা শুক্রবারের অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার স্টল

বন্ধ করেছি, ভাবছি আজ (বুধবার) খুলব। কিন্তু লোকজন নেই বলে খুলিনি। শুক্রবার ছুটির দিনে বইপ্রেমীর পদভারে মেলাপ্রাঙ্গণ মুখরিত হবে এবং মেলায় একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে তাই শুক্রবারই আমার স্টল খুলব।’ এ প্রকাশকের কথার সূত্র ধরে প্রকাশনা সংস্থা বাঁধনের কর্ণধার শেখ শাহরুল আলম বলেন, ‘শুক্রবারের আগে মেলা আর জমবে না। আশা করছি শুক্রবার থেকে মেলা সফলতার দিকে ধাবিত হবে।’ যদি ৫টার সময়ই মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে এ মেলা আয়োজনেরই বা কী দরকার ছিল- নিরাশ হয়ে নিজেদের মধ্যে এমন কথোপকথন করেন ক্ষুব্ধ বইপ্রেমীরা।

নঈম নিজামের ‘নেতার মদে পানি’ : বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের কলামবিষয়ক বই ‘নেতার মদে পানি’ প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত তথ্যসমৃদ্ধ ও পাঠকসমাদৃত বিভিন্ন কলাম দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কলামগুলো হলো- সবকিছুতেই যেন এলাহি ভরসা, দিনদুপুরে নিরপেক্ষ হোক সিটি ভোট, এমপি চাইলেন ২০, ব্যাংক বলল ২০০ কোটি, ভোটার উপস্থিতিহীনতা ও গান্ধী হত্যাকারীর মূর্তি, চালচোরদের জেলে দিন, বিদায় হোন ব্যর্থরা, মৃত্যুর দুয়ারে নতুন শপথ, মাফিয়া সাজলেন, ক্ষমতার দাপট দেখালেন, তারপর?, রাজসভায় ছাগল মন্ত্রী ও মৃত্যু উৎকণ্ঠায় স্তব্ধ বিশ্ব, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতা ও পাপের রাজনীতি, গিয়েছিলাম আলজাজিরা অফিসে, বলেছিলাম কথা ইত্যাদি।

বইটি নিয়ে প্রকাশক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কলামবিষয়ক এ বইটি ইতিমধ্যে পাঠকদের নজর কেড়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনে কলামগুলো আগেই ছাপা হওয়ার কারণে বইটির বিক্রি খুবই ভালো।’ এবারের মেলায় এ বইটি অন্যতম বেস্টসেলার হিসেবে সব মহলে সমাদৃত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শাকীর এহসানুল্লাহ। ৩২০ পৃষ্ঠার বইটির দাম ৪৭০ টাকা। লেখক বইটি উৎসর্গ করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর সহধর্মিণী আফরোজা সোবহানকে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে গতকাল বইমেলার ২১তম দিনে নতুন বই এসেছে ৬৯টি। এর মধ্যে গল্পের আটটি, উপন্যাস ১১টি, প্রবন্ধ তিনটি, কবিতা ২৮টি, গবেষণা দুটি, ছড়া চারটি, জীবনী তিনটি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দুটি, ভ্রমণবিষয়ক একটি, ইতিহাস দুটি, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক একটি ও অন্যান্য দুটি। এদিনের উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো পাঞ্জেরী প্রকাশিত পলাশ মাহবুবের ‘ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ’, অন্যপ্রকাশ এনেছে শিহাব শাহরিয়ারের ‘নিঃসঙ্গ নদী ছায়া’, দাঁড়িকমা এনেছে মাহিন খানের ‘প্রতিবাদ’, জিনিয়াস এনেছে আবদুল মান্নান সরকারের ‘জনক’ (দ্বিতীয় খ-), ড. আহমদ আবদুল্লাহর ‘ঢাকার মুসলিম ঐতিহ্য’, ক্রিয়েটিভ এনেছে সন্দীপন ধরের ‘ভয়’, পুঁথিনিলয় এনেছে বুলবুল চৌধুরীর ‘বাছাই কিশোর গল্প’, বইপত্র এনেছে শামস রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু নেতা, নেতৃত্ব ও আজকের বাংলাদেশ’, পেন্সিল এনেছে মোহাম্মদ তালুতের ‘নৈঋত’ প্রভৃতি। আর গত ২১ দিনে মোট বই এসেছে ২ হাজার ২৮৬টি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর